চিকিৎসার অবহে*লায় বৃদ্ধের মৃ*ত্যুর অভি*যোগ
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০৫:১৫ AM

পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

চিকিৎসার অবহে*লায় বৃদ্ধের মৃ*ত্যুর অভি*যোগ

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯/১১/২০২৫ ০৭:২৮:৫২ PM

চিকিৎসার অবহে*লায়  বৃদ্ধের মৃ*ত্যুর অভি*যোগ

ছবি:সংগৃহীত


সিলেটের আল হারামাইন হাসপাতালে চিকিৎসার অবহেলায় এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন তার কন্যা ডা. নুরিয়া জাহান কেয়া। তিনি দাবি করেন, ৬৯ বছর বয়সী তার পিতা বেদার আহমেদকে ভুল ইনসুলিন ডোজ দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে সঠিক মনিটরিং না করার কারণেই তার মৃত্যু ঘটে। পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর সার্টিফিকেটে সত্য গোপন করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ওসমানীনগরের সাদিপুর ইব্রাহিমপুরের বাসিন্দা ডা. কেয়া।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, পন্টাইন ইনফার্কশন থেকে ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছিলেন তার পিতা। নর্থ ইস্ট ও মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসার পর তিনি সম্পূর্ণ স্থিতিশীল অবস্থায় ছিলেন। বাসায় ফেরার পরদিন বমি ও কাশি বেড়ে গেলে তাকে আল হারামাইন হাসপাতালে ডা. রাহাত আমিন চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে ভর্তি করা হয়।

ডা. কেয়ার অভিযোগ, ভর্তির সময় তার বাবার খাওয়া-দাওয়া স্বাভাবিক ছিল এবং এনজি করার প্রয়োজনও হয়নি। ১৩ নভেম্বর সকালে তার বাবার এফবিএস ছিল ৭.১। তিনি নার্সকে ইনসুলিন না দেওয়ার অনুরোধ জানাতে বোনকে বলেছিলেন। কিন্তু নির্দেশনা উপেক্ষা করে কোনো ডাক্তারকে না জানিয়ে নার্স স্বেচ্ছায় ১৬ ইউনিট ইনসুলিন দিয়ে দেন এবং এটিই নিয়ম বলে জানান।

এর ফলে রোগীর আরবিএস নেমে আসে ৩.১-এ। বিষয়টি নার্স বুঝতে পারলেও পরিবারের কাউকে বা চিকিৎসককে অবহিত করা হয়নি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে একজন মেডিকেল অফিসারকে জানালে ডেক্সট্রোজ দেওয়া হয়। পরদিন ভোরে মনিটরিং ছাড়াই হ্যালোপেরিডল প্রয়োগ করা হয়।

ডা. কেয়া আরও বলেন, শেষ মুহূর্তে ভুল পদ্ধতিতে সাকশন করা হয়-সচরাচর প্রয়োজনীয় পালস অক্সিমিটার, অক্সিজেন সাপোর্ট বা সেচুরেশন চেক না করেই সাকশন শুরু করে নার্স। ফলে মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে রোগীর সাইনোসিস দেখা দেয়। তখন পালস অক্সিমিটার আনতে দেরি হওয়ায় তার পিতা মারা যান।

তিনি অভিযোগ করেন, মৃত্যুর সার্টিফিকেটে আরবিএস ৩.১ থাকা সত্ত্বেও হাইপোগ্লাইসেমিয়ার উল্লেখ করা হয়নি, যা সত্য গোপনের প্রচেষ্টা বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. নুরিয়া জাহান কেয়া জানান, তিনি হাসপাতাল থেকে তার পিতার চিকিৎসার ফাইল সংগ্রহের জন্য আবেদন করেছেন। পাশাপাশি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ডিজিএইচএস ও বিএমডিসির হস্তক্ষেপ কামনা করেন। আল হারামাইন হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি। সম্মেলনে নিহত বেদার আহমেদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ