ছবি:সংগৃহীত
সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি ও দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম এ মালিক। বিএনপির দুঃসময়ে তিনি যুক্তরাজ্যে দলটির শক্ত হাল ধরেছিলেন। সেসময় তার কিছু কর্মকান্ড দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছিল। কথিত আছে ক্ষতমাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্য সফরকালে তাকে চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। এম এ মালিক এর আগে কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি। রাজনীতিতে পোক্ত হলেও ভোটের ময়দানে তিনি অনেকটাই কাঁচা। এলাকার অনেকেই তাকে চেনেন না। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকায় তার সঙ্গে তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের যোগাযোগ একেবারে নেই।
অন্যদিকে, এ আসনে প্রার্থী রিভিউ চান অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালাম। তিনি জেলায় রাজনীতি করেছেন। এলাকায় তাঁর নিজস্ব বলয় রয়েছে। তৃণমূল ও সাধারণ মানুষের সঙ্গেও তার যোগাযোগ রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালেও বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। দল প্রাথমিক পর্যায়ে এম এ মালিককে মনোনয়ন দিলেও তিনি এখনো আশাবাদী। নিয়মিত নির্বচনী এলাকায় উঠান বৈঠক, গণসংযোগ করছেন তিনি।
এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। মালিকের মনোনয়ন পাওয়ায় ভেতরে ভেতরে দলের একটি বড় অংশ নাখোশ;এমনটি কথা বলে জানা গেছে। সূত্র বলছে- এরই মধ্যে বিষয়টি আঁচ করতে পেরে লন্ডন থেকে কড়া বার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্তার চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের কর্মী-সমর্থকেরা ভেতরে ভেতরে ক্ষোভে ফুঁসছেন। সাংগঠনিক শাস্তির ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন না। অনেকেই দলীয় কার্যক্রম থেকে নিজেকে দূরে রাখছেন। সবমিলিয়ে এই আসনে বিএনপির প্রার্থীর নড়বড়ে অবস্থান নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে আলোচনা চলছে।
ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত এম এ মালিক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করলে সুবিধা তুলে নিতে পারেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। এ আসনে জামায়াত প্রার্থী করেছে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের সাবেক দুই বারের চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদকে। তিনি প্রার্থী হিসেবে মাঠে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। নির্বাচনী এলাকায় তাঁর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। স্থানীয় ভোটারদের কাছেও আসনটিতে শক্তিশালী প্রতিদ্ব›দ্বী তিনি।
অবশ্য অসন্তোষ এবং দলীয় কোন্দলের বিষয়টি মানতে নারাজ বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এম এ মালিক। তিনি দৈনিক জৈন্তাবার্তাকে বলেন, ‘দলের সবার সাথে আমার যোগাযোগ রয়েছে। সকলেই সংযোগিতা করছেন। ধানের শীষের পক্ষে ভালো সাড়া পাচ্ছি। দলের সবাই আমার সাথে আছেন।’
অন্যদিকে রিভিউ চাওয়া ব্যরিস্টার এম এ সালাম দৈনিক জৈন্তাবর্তাকে বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্তের বাইরে আমার কেনো বক্তব্য নেই। দীর্ঘদিন ধরে আমি মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। মূলত তৃণমুলের নেতা-কর্মীরা প্রার্থী রিভিউয়ের দাবি তুলেছে। দল যে সিদ্ধান্ত দেবে আমি অবশ্যই তা পালন করব।’
জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদও জানিয়েছেন তিনি ভোটের মাঠে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। সবাই পরিবর্তন চায়। দাঁড়িপাল্লার পক্ষে জোয়ার উঠেছে বলে দাবি করছেন তিনি।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




