ইরানে বি*ক্ষোভ অব্যাহত, নি*হত বেড়ে ৩৫
শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৫:৩৭ PM

ইরানে বি*ক্ষোভ অব্যাহত, নি*হত বেড়ে ৩৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬/০১/২০২৬ ০৩:০৬:৪২ PM

ইরানে বি*ক্ষোভ অব্যাহত, নি*হত বেড়ে ৩৫

ছবি : সংগৃহীত


ইরানে চলমান বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার মানবাধিকারকর্মীদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই বিক্ষোভ থামার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ২৯ জন বিক্ষোভকারী, চার শিশু ও ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্য। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৭টির ২৫০টিরও বেশি স্থানে।

ইরানের ভেতরে থাকা একাধিক কর্মী নেটওয়ার্কের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই হিসাব প্রকাশ করেছে এইচআরএএনএ। অতীতের বিভিন্ন গণঅভ্যুত্থানের সময় তাদের তথ্য তুলনামূলকভাবে নির্ভরযোগ্য প্রমাণিত হয়েছে।

অন্যদিকে, ফারস নিউজ এজেন্সি, যা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত; সোমবার রাতে জানায়- বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ২৫০ জন পুলিশ সদস্য এবং বিপ্লবী গার্ডের স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজের ৪৫ সদস্য আহত হয়েছেন।

সহিংসতায় প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইরান সরকার যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সহিংসভাবে হত্যা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের রক্ষায় এগিয়ে আসবে”।

ট্রাম্প কীভাবে বা আদৌ সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তার এই মন্তব্যের পরই তেহরানে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ইরানের শাসকগোষ্ঠীর কর্মকর্তারা পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

এই হুঁশিয়ারি নতুন মাত্রা পায়, যখন গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে- যিনি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।

বর্তমান বিক্ষোভকে ২০২২ সালের পর ইরানের সবচেয়ে বড় আন্দোলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সে বছর পুলিশ হেফাজতে ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে যে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটিই ছিল সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ব্যাপক গণবিক্ষোভ।

যদিও এবারের আন্দোলন এখনো মাহসা আমিনির মৃত্যুকে ঘিরে হওয়া বিক্ষোভের মতো তীব্র বা সর্বগ্রাসী রূপ নেয়নি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান একাধিক দফায় দেশজুড়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জোরদার হওয়া এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর অর্থনৈতিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।

গত ডিসেম্বরে ইরানের মুদ্রা রিয়াল ভয়াবহভাবে পড়ে গিয়ে ডলারের বিপরীতে ১৪ লাখ রিয়াল ছাড়িয়ে যায়। এর কিছুদিন পরই শুরু হয় বর্তমান বিক্ষোভ। তবে এই আন্দোলনের প্রকৃত ব্যাপ্তি নিরূপণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিক্ষোভ নিয়ে খুব সীমিত তথ্য দিচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে কখনো রাস্তায় মানুষের ভিড়, কখনো গুলির শব্দ শোনা গেলেও সেগুলো ক্ষণস্থায়ী ও অস্পষ্ট।

এ ছাড়া ইরানে সাংবাদিকদের কাজের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে- দেশের ভেতরে ভ্রমণের জন্য অনুমতি লাগা, হয়রানি কিংবা গ্রেপ্তারের আশঙ্কা তাদের প্রতিবেদনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সবকিছুর পরও বিক্ষোভ থামার লক্ষণ নেই। এমনকি শনিবার সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি প্রকাশ্যে “দাঙ্গাকারীদের তাদের জায়গায় বসাতে হবে” বলার পরও, রাস্তায় ক্ষোভ কমেনি বলে ইঙ্গিত মিলছে।

জৈন্তা বার্তা/আরআর



শীর্ষ সংবাদ: