ছবি : সংগৃহীত
ঘড়ির কাঁটায় দুপুর ১২টা পার হলেও রাজধানীর মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দেখা মেলেনি কোনো ক্রিকেটারের। বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে ক্রিকেটারদের অনড় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত বিপিএলের চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী ম্যাচটি বাতিল হচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজেদের পরবর্তী কঠোর অবস্থান জানাতে দুপুর ১টায় বনানীতে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব।
ক্রিকেটারদের শান্ত করতে বিসিবি অভিযুক্ত পরিচালক নাজমুল ইসলামকে ৪৮ ঘণ্টার ‘কারণ দর্শানোর নোটিশ’ বা শোকজ দিলেও বরফ গলেনি। কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন ও নাজমুল হোসেন শান্তদের অবস্থান একদম স্পষ্ট—শুধু শোকজ নয়, পদত্যাগই একমাত্র সমাধান।
মধ্যরাতের রুদ্ধশ্বাস বৈঠক এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বারবার করা ফোন কলও ক্রিকেটারদের মাঠে ফেরাতে পারেনি। আত্মসম্মানের প্রশ্নে কোনো প্রকার আপস করতে রাজি নন ক্রিকেটাররা।
বিসিবির অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলাম সম্প্রতি তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলা এবং ক্রিকেটারদের পেছনে করা খরচকে ‘টাকা অপচয়’ হিসেবে অভিহিত করে যে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন, তাই আজ বিদ্রোহের আগুনে ঘি ঢেলেছে।
ক্রিকেটারদের সাফ কথা, ড্রেসিংরুমে ফেরার আগে এই অপমানের চূড়ান্ত ফয়সালা হতে হবে। বর্তমানে শীর্ষ সংগঠক শাহনিয়ানসহ মূল ক্রিকেটাররা টিম হোটেলেই অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই কোয়াব সভাপতি দুপুর ১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন।
যদি দুপুরের সংবাদ সম্মেলন থেকে বড় কোনো ঘোষণা আসে, তবে পুরো বিপিএলই অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে মাঠের লড়াই শুরুর আগে ক্রিকেটারদের এমন ঐক্যবদ্ধ বিদ্রোহ আগে কখনো দেখা যায়নি।
মিরপুর স্টেডিয়ামে এখন শুধুই নীরবতা, আর সবার চোখ এখন কোয়াবের সংবাদ সম্মেলনের দিকে। বিসিবির এক পরিচালকের ‘অসংলগ্ন উক্তি’ কি তবে ভেস্তে দিচ্ছে বিপিএলের পুরো আসর? উত্তরটা হয়তো মিলবে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




