শাকসু নির্বাচনে ২৮ দফা দাবি তুলে ধরল ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০২:০৪ PM

শাকসু নির্বাচনে ২৮ দফা দাবি তুলে ধরল ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল

ইমরান হোসেন রানা, শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫/০১/২০২৬ ১১:৪৭:৩৮ PM

শাকসু নির্বাচনে ২৮ দফা দাবি তুলে ধরল ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল

ছবি:সংগৃহীত


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেল ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ তাদের ঘোষিত ২৮ দফা নির্বাচনী কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

ইশতেহার ঘোষণার সময় প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী দেলোয়ার হাসান (শিশির) এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী মুজাহিদুল ইসলামসহ প্যানেলের অন্যান্য প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে দেলোয়ার হাসান বলেন, দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি জমে উঠলেও সেগুলোর কার্যকর সমাধান হয়নি। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে সামনে রেখে ২৮ দফা ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে।

ইশতেহারে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আবাসন সংকট দূর করা এবং শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে জুলাই কর্নার স্থাপন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হামলার বিচার নিশ্চিত করা এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডারের আওতায় নিয়মিত শাকসু নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পাশাপাশি শতভাগ আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সাশ্রয়ী মূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার সরবরাহ, নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং আজাদি আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণের কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া গবেষণা কার্যক্রম জোরদার, উদ্ভাবন ও দক্ষতা উন্নয়ন, ক্যারিয়ার প্রস্তুতি ও সফট স্কিল বৃদ্ধিতে সহায়ক উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা বিষয়ক মেন্টরিং ব্যবস্থা চালু, আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও এতে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার জন্য টিউশন অ্যাপ চালু ও বৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়নের কথাও ইশতেহারে স্থান পেয়েছে।

নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট সেবা সম্প্রসারণ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গঠনের অঙ্গীকার করা হয়েছে।

ইশতেহারে নারীদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা, পরিবেশবান্ধব ও সবুজ ক্যাম্পাস গঠনে সমন্বিত উদ্যোগ, আইনি সহায়তা ও মানবাধিকার সুরক্ষা, আধুনিক মেডিক্যাল সেন্টার স্থাপন এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কথাও তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া র‍্যাগিং ও যেকোনো ধরনের হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় প্রতিরোধমূলক নিরাপত্তা সেল গঠন, মাতৃত্বকালীন ছুটির বিধান কার্যকর করা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা এবং সাহিত্য–সংস্কৃতি ও খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণের অঙ্গীকার করা হয়েছে।


জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ