ছবি:সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভূমিধ্বস বিজয়ের পর নতুন সরকার গঠনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। বিশেষ করে সিলেট বিভাগ থেকে কারা মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন-এ নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও ত্যাগী নেতার নামও সম্ভাব্য মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে।
সম্ভাব্য আলোচনায় থাকা নেতারা
নির্বাচিত এমপিদের মধ্যে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, এম নাসের রহমান, ড. রেজা কিবরিয়া এবং আলহাজ্ব জি কে গউছ-এর নাম মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রাজনৈতিক মহলে ঘুরছে।
এছাড়া টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক) হুমায়ুন কবির, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, এবং সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
সিলেট–১ আসন ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা
সিলেট সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-১ আসনকে ঘিরে দীর্ঘদিনের একটি রাজনৈতিক প্রচলন রয়েছে-এই আসনে যে দল জয়ী হয়, কেন্দ্রেও নাকি সেই দল সরকার গঠন করে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার জয় পেয়েছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অতীতে এ আসনের সংসদ সদস্যদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির নজির থাকায় তিনিও সম্ভাব্য তালিকায় এগিয়ে আছেন।
আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা
সাবেক দুইবারের সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট-৪ আসনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, জনপ্রিয়তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে তার সমর্থকরা আশা করছেন, নতুন মন্ত্রিসভায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন।
টেকনোক্রেট কোটার আলোচনায় যাঁরা
সিলেট-২ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী–র স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা হুমায়ুন কবির দলীয় নির্দেশে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান-যা তাকে টেকনোক্রেট কোটায় সুযোগ পাওয়ার আলোচনায় সামনে এনেছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত ড. এনামুল হক চৌধুরীকে প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব অথবা প্রধানমন্ত্রীর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় মহলে গুঞ্জন রয়েছে।
ত্যাগ ও সাংগঠনিক ভূমিকায় আলোচনায় কাইয়ুম চৌধুরী
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও দলের স্বার্থে সরে দাঁড়ান। পরে তাকে জেলার সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তার নেতৃত্বে জেলার বেশিরভাগ আসনে দলীয় প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত হয়। দলীয় নেতা-কর্মীরা মনে করেন, এই ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
হবিগঞ্জ থেকে শক্তিশালী প্রার্থী
হবিগঞ্জ-১ আসনের বিজয়ী ড. রেজা কিবরিয়া আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত অর্থনীতিবিদ। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া–র পুত্র হিসেবে রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তার অর্থনৈতিক দক্ষতাও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা জোরালো করেছে।
একই সঙ্গে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন এবং বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জি কে গউছের নামও সম্ভাব্য তালিকায় আলোচিত হচ্ছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যাঁর হাতে
তবে দলীয় সূত্র বলছে, মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাবেন-সে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি দলের চেয়ারম্যান ও সংসদ নেতার এখতিয়ার। ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা চাপ নয়, বরং দলীয় প্রয়োজন, যোগ্যতা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে নতুন সরকার গঠনকে ঘিরে সিলেট বিভাগে এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কে হচ্ছেন মন্ত্রী, আর কে পাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত জল্পনা-কল্পনা চলছেই, আর সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহলের পারদও ক্রমেই বাড়ছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




