ছবি:সংগৃহীত
সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজার) আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের সমীকরণ, স্থানীয় প্রার্থীদের অবস্থান এবং নীরব ভোটের প্রভাব নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজ উপজেলা বিয়ানীবাজারে প্রত্যাশিত ভোট এককভাবে টানতে না পারায় পিছিয়ে পড়েন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী, আর গোলাপগঞ্জে শক্ত অবস্থান ও আওয়ামী লীগের নীরব ভোটের একটি অংশ পাওয়ায় বিজয় নিশ্চিত করেন বিএনপি প্রার্থী।
সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী জয়লাভ করেন। অপরদিকে আলোচিত ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামী নেতা মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন পরাজিত হন।
নির্বাচনের আগে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন সেলিম উদ্দিন। দলীয় নেতাকর্মীদের জোর প্রচারণা থাকলেও বিয়ানীবাজার উপজেলায় একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকায় ভোট বিভক্ত হয়ে যায়। একই এলাকার আরও কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তিনি এককভাবে ভোট নিজের দিকে টানতে পারেননি বলে স্থানীয় বিশ্লেষকদের ধারণা।
অন্যদিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলায় তুলনামূলকভাবে একক অবস্থানে ছিলেন এমরান আহমদ চৌধুরী। সেখানে তিনি প্রায় ৭১ হাজার ভোট পান। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নীরব ভোটের একটি অংশও তাঁর পক্ষে গেছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, যা তাঁর বিজয়ে অতিরিক্ত সুবিধা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
ভোটের হিসাব অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে এমরান আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৬১২ ভোট। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৭৪৮ ভোট। ফলে ১০ হাজার ৮৬৪ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন এমরান।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিয়ানীবাজারে ভোট বিভাজন, গোলাপগঞ্জে শক্ত অবস্থান এবং নীরব ভোটের সমর্থন-এই তিন সমীকরণই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




