ছবি:সংগৃহীত
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আজ। মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সারাদেশের মতো সিলেটেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। দিবসটি ঘিরে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি। এরই অংশ হিসেবে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, সিলেট প্রভাতফেরির আয়োজন করেছে।
সংগঠনের উদ্যোগে সকাল ৮টায় কবি নজরুল অডিটোরিয়াম থেকে প্রভাতফেরি শুরু হয়ে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। আয়োজকরা জানান, মহান একুশের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই এ আয়োজন।
রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচি শুরু হয়। একই সময়ে সিলেট নগরীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
একুশের প্রভাতে সিলেটসহ সারাদেশে প্রভাতফেরি, আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সিলেটে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে ভাষা শহিদদের স্মরণে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা এবং স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এদিকে ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহিদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও কুরআনখানির আয়োজন করা হয়েছে। সিলেটেও বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির ও উপাসনালয়ে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে নেমে আসে। পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিকসহ নাম না জানা অনেকে শহিদ হন। তাদের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় বাংলা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি লাভ করে এবং ভাষা আন্দোলন পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি রচনা করে।
১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে বিশ্বব্যাপী ভাষার বৈচিত্র্য ও মাতৃভাষার অধিকার সংরক্ষণের প্রতীক হিসেবে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
সরকারি ছুটির এ দিনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। সিলেট নগরীসহ বিভাগের বিভিন্ন উপজেলায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




