পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভায় শাবিতে মাতৃভাষা দিবস পালিত
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৯:২১ AM

পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভায় শাবিতে মাতৃভাষা দিবস পালিত

ইমরান হোসেন রানা, শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১/০২/২০২৬ ০৩:৪৯:০২ PM

পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভায় শাবিতে মাতৃভাষা দিবস পালিত

ছবি:সংগৃহীত


যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে প্রশাসনিক ভবন-১-এর সামনে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম।

এ সময় ভাষা শহীদদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপাচার্য পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, শিক্ষক সমিতি, হল প্রশাসন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠন, শাবি প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

সকাল ১১টায় মিনি অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও জাতীয় শহীদ দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি এবং স্কুল অব ফিজিক্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক মো. আহমদ কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, রাষ্ট্রভাষা বাংলাকে সর্বস্তরে প্রয়োগে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। ভাষাচর্চা কেবল একটি নির্দিষ্ট দিবসে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং বাংলা ভাষাকে আরও সমৃদ্ধ ও এগিয়ে নিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাকে এগিয়ে নিতে হলে দেশের অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করতে হবে। এ সময় তিনি ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

উপ-উপাচার্য বলেন, ভাষা মহান আল্লাহ তাআলার দান। তৎকালীন সরকার উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিয়েছিল, যা ছিল অন্যায় ও নিপীড়ন। 

তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ কখনও জোর করে চাপিয়ে দেওয়া কিছু গ্রহণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশ্বব্যাপী পালিত হওয়া ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, তৎকালীন তরুণদের অসামান্য অবদানের ফলেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছে। ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির আদান-প্রদান ঘটে এবং এই দিবস আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূচনাও স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচারে বিদ্যমান স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কালাম আহমদ চৌধুরী। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, হল প্রভোস্ট, দপ্তরপ্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ