জৈন্তাপুরে সাহরী ও ইফতারে ব্যাপক চাহিদা বিভিন্ন প্রজাতির শাক
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৫:১৩ AM

জৈন্তাপুরে সাহরী ও ইফতারে ব্যাপক চাহিদা বিভিন্ন প্রজাতির শাক

সাইফুল ইসলাম বাবু, জৈন্তাপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬/০২/২০২৬ ০৫:১২:০৩ PM

জৈন্তাপুরে সাহরী ও ইফতারে ব্যাপক চাহিদা বিভিন্ন প্রজাতির শাক

ছবি:সংগৃহীত


পবিত্র মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে জৈন্তাপুর উপজেলায় বিভিন্ন প্রজাতির শাকের চাহিদা বিগত রমজানের তুলনায়  উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রোজার সময় হালকা ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় সাধারণ মানুষের খাদ্য তালিকায় বিভিন্ন প্রজাতির  শাক বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

চাহিদা বেশী থাকায় নিয়মিত সবজি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি মাঠে নেমেছেন অনেক মৌসুমি শাক বিক্রেতা। সরেজমিনে দেখা গেছে, জৈন্তাপুর সদর বাজার,দরবস্ত বাজার,সারিঘাট বাজার,হরিপুর বাজার,চিকনাগোল বাজার,৪ নং বাংলা বাজার,আদর্শগ্রাম বাজার এসব বাজারের প্রবেশমুখ ও মহাসড়কের পাশে ও নিয়মিত সবজীর দোকান সমূহে বিভিন্ন প্রজাতির  শাক নিয়ে বসতে দেখা যাচ্ছে বিক্রেতাদের।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন ভোরে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বসতবাড়ির উঠান, বাড়ির আঙিনা ও ছোট ক্ষেত থেকে তাজা শাক সংগ্রহ করে বাজারে আনা হচ্ছে। এতে ক্রেতারা পাচ্ছেন ফ্রেশ ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব শাক। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় গৃহিণীরাও নিজেদের উৎপাদিত শাক বিক্রি করে রোজা মাসে বাড়তি আয় করছেন।

এ সময় বাজারে বেশী চাহিদার মধ্যে রয়েছে লাউশাক, লালশাক, কলমিশাক, পুঁইশাক, পালং শাক, ডাটা শাক, হেলেঞ্চা শাক ও লাইশাক।  এসব শাক আটি বেঁধে ১০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিদিন যোহরের নামাজের পর থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত শাক কেনাবেচা চলে। ইফতারের খাবারে শাক রাখার প্রবণতা বাড়ায় এ সময় বাজারে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ইফতারে খিচুড়ী ও পোলাও এর সাথে ভাজাপোড়ার পাশাপাশি একটা বাড়তি রেসিপি হিসেবে শাকভাজি খেয়ে থাকেন রোজাদাররা।

জৈন্তাপুর সদর এলাকায় কাঁচাবাজারে শাক কিনতে আসা বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আশরাফুল ইসলাম  বলেন, রোজায় শাক খেলে শরীর ভালো থাকে। ভারী খাবারের পরিবর্তে শাকসবজি খেলে হজমে সুবিধা হয়। দামও তুলনামূলক কম থাকায় প্রতিদিনই শাক কেনা হচ্ছে।বিশেষ করে প্রতিদিন দুপুর হতে বাগান থেকে সদ্য তুলে আনা লাউশাক, লালশাক,পালইশাক এর চাহিদা খুব বেশী। এই শাকগুলো গৃহস্থবাড়ী থেকে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা নিয়ে আসেন এবং এর চাহিদা রোজা মাসে সব চেয়ে বেশী থাকে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, রোজা রেখে শাকসবজি খাওয়া উপকারী। শাকে থাকা আঁশ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগায়, হজমে সহায়তা করে এবং রোজার সময় শরীরকে সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে।

নিয়মিত সবজী ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান মাসজুড়ে শাকসবজির এই চাহিদা অব্যাহত থাকে। নিদিষ্ট কিছু সবজীর দাম বেশী বৃদ্ধি পেলেও বিভিন্ন প্রজাতির শাকের দাম মোটামুটি ক্রেতাদের হাতের নাগালে থাকে। এতে করে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় সন্তুষ্ট। 

এদিকে রোজা মাসে দিনভর পানাহার থেকে বিরত থেকে ইফতার ও সাহরীতে শাক খাওয়ার উপকারীতা সম্পর্কে দৈনিক জৈন্তাবার্তা  পত্রিকার প্রতিবেদকের সাথে  কথা বলেন জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ সুজয় চৌধুরী। তিনি বলেন এটা মানবদেহের জন্য সবচেয়ে উপকারী একটি খাদ্যপ্রান। 

এর থেকে ভালো অভ্যাস আর বিকল্প কিছু হতে পারে না। তিনি বলেন, রোজা মাস সংযোমের মাস। রোজা মাসে যেহেতু রোজাদারগণ ভোরে সাহরী করে এবং সন্ধ্যায় ইফতার করা হয়। এই লম্বা সময়টাতে পানাহারমুক্ত থাকায় স্বাভাবিক ভাবেই শরীলে পানিশূন্যতা সৃষ্টি হয়। আর এই পানিশূন্যতা পূরণ করতে শাকের গুরুত্ব অপরিসীম। 

কারণ শাক হচ্ছে সবচেয়ে ফাইবার বা আঁশ সম্মৃদ্ধ একটি খাবার। পানিশূন্যতার পাশাপাশি মানবদেহে আরো একটি  সমস্যা সৃষ্টি হয় তা হলো কোষ্ঠ্যকাঠিন্যতা। তাই নিয়মিত শাক খাওয়ার মধ্য দিয়ে শরীলে আদ্রতা বৃদ্ধি, কোষ্ঠকাঠিন্যতা দূর, ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা পূরণে শাক খাওয়া খুবই উপকারী। তাছাড়া দীর্ঘক্ষণ পানাহারমুক্ত থাকার পর হঠাৎ একটু ভারী খাবার খেলে এবং তার সাথে পরিমিত মাত্রায়  শাক খেলে দ্রুত হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। 

তিনি আরো বলেন, শাক রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ সহ আয়রণের চাহিদা পূরণ করে থাকে।সেই সাথে শাক সবসময় কম তেলে রান্না করে খাওয়া উত্তম বলে তিনি জানান।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ