ছবি:সংগৃহীত
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীবান্ধব নানা কার্যক্রমে সরব ছিল বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা। বিশেষ করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে একধরনের প্রতিযোগিতামূলক উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়।
নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের কারণে কিলো রোড এলাকায় ধুলাবালির ভোগান্তি বাড়লে ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করে। অন্যদিকে ছাত্রশিবির ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে। শুক্রবার ও শনিবার কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি খোলা রাখা এবং ব্যক্তিগত বই নিয়ে প্রবেশের অনুমতির দাবিতে উপাচার্যের কাছে ধারাবাহিক বিবৃতি দেওয়া হয়। পরিবহন খাতের দুরবস্থা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সম্পাদক পদপ্রার্থীরা পরিবহন প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ছাত্রদল বিভিন্ন আবাসিক হলে অভিযোগ বক্স স্থাপন করে। যদিও এসব বক্সে প্রাপ্ত অভিযোগের বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ছাত্রী হলগুলোতে আধুনিক পানির ফিল্টার স্থাপন করা হয়। হ্যান্ডবল গ্রাউন্ডসংলগ্ন এলাকায় ছাত্রদলের উদ্যোগে ওয়াটার পিউরিফায়ার বসানো হলেও বর্তমানে সেখানে পানির সংকট দেখা গেছে বলে শিক্ষার্থীরা জানান। নতুন ফুডকোর্টে খোলা লাইব্রেরি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেখানে পর্যাপ্ত বই পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ছাত্রদল সহজে রক্তদাতা খুঁজে পাওয়ার জন্য একটি অ্যাপ চালু করে এবং মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করে। অন্যদিকে ছাত্রীসংস্থা চক্ষু পরীক্ষার ক্যাম্প পরিচালনা করে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে ইন্টারনেট সেবা উন্নয়ন, হলের খাবারের মান বৃদ্ধি, রাস্তা সংস্কার ও পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়নসহ নানা প্রতিশ্রুতি দেন প্রার্থীরা। সে সময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক কাজ ও প্রতিশ্রুতিতে প্রতিযোগিতার চিত্র দেখা গেলেও শাকসু নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণার পর থেকে কার্যক্রমে দৃশ্যমান গতি কমে গেছে বলে অনেকে মনে করছেন। রমজান মাসে আবাসিক হলের খাবারের মান নিয়ে প্রকাশ্য উদ্যোগ কম দেখা যাচ্ছে। কিলো রোডের ধুলাবালির সমস্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর নেতারা।
সমাজসেবা সম্পাদক পদপ্রার্থী মো. তাকবীর আহম্মদ বলেন, ‘প্রতিযোগিতা নেই-এ কথা পুরোপুরি সঠিক নয়। বর্তমানে অধিকাংশ শিক্ষার্থী একাডেমিক চাপে আছেন। রোজার বন্ধের আগে মিডটার্ম পরীক্ষা টাইট সময়সূচিতে চলছে। আমরা প্রার্থীরাও সাধারণ শিক্ষার্থী। ব্যস্ততার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
শাবিপ্রবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, এরপর মাহে রমজান ও সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার কারণে ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক-সামাজিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে সাময়িক স্থবিরতা এসেছে। তবে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হলে প্রোগ্রামগুলো আবার পূর্ণ গতিতে চলবে। রমজানকে কেন্দ্র করে একাধিক কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে।’
ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু শাকসুকে সামনে রেখে আমরা কাজ করেছি-এটি সঠিক নয়। অতীতেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করেছি, যেমন ২০২২ সালের বন্যায় শিক্ষাবৃত্তি প্রদান। বর্তমানে আমাদের নিয়মিত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং সামনে আরও শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা আছে।’
শাকসু নির্বাচন স্থগিত থাকলেও শিক্ষার্থীরা এখন দেখার অপেক্ষায়-প্রতিশ্রুতির বাইরে বাস্তব উদ্যোগ কতটা দৃশ্যমান হয়।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




