ছবি:সংগৃহীত
গোয়াইনঘাট উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে সময়মতো সেচের পানি না পাওয়ায় বিস্তীর্ণ মাঠের ধানক্ষেত জ্বলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পানির অভাবে জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে পড়েছে। এতে ধান উৎপাদন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক।
তীব্র পানি সংকটে বোরো ধানের চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করা অনেক জমিতে বোরো ধান আবাদ করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে বোরো ধান চাষ করছেন, এমন শত শত কৃষক পানি সংকটে ভুগছেন। অনেক কৃষক টাকা দিয়েও সেচের ব্যবস্থা করতে পারছেন না। বোরো আবাদের ভরা মৌসুমে সেচ সংকটে কৃষকরা আবাদি জমি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। অনেকে জমিতে চারা রোপণের পর সেচ সংকটে পড়েছেন। আবার কেউ সেচের অভাবে চারা রোপণ করতে পারছেন না। এতে করে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আবার কেউ কেউ অনেক দূর থেকে পানি সংগ্রহ করলেও বাড়ছে উৎপাদন খরচ।
পানি সংকট নিয়ে এলাকার কৃষকরা বলেন, আমাদের বোরো ধান চাষের জন্য যদি সরকারি উদ্যোগে পানির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, তাহলে আমন মৌসুমের মতো বোরো ধান চাষ করা সম্ভব। তবে বছরের পর বছর যায়, সেচের কোনো ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় না। বিভিন্ন সেচনালা খনন না করার কারণে পানি আসে না। হাওর ও নন-হাওর এলাকাসহ সব জায়গায় পানির সমস্যা।
সরেজমিনে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ঘুরে ও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাওরে যেমন পানির সংকট, ঠিক একইভাবে নন-হাওর এলাকাতেও তীব্র পানির অভাব রয়েছে। অনেক জমিতে ধানের চারা রোপণের পরেও ক্ষেত শুকিয়ে খাঁ খাঁ করছে। আবার কেউ কেউ পানির অভাবে চারা রোপণ করতে পারেননি। একরপ্রতি ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা খরচ করে বোরো ধান চাষ করেও পানির অভাবে সবকিছু নষ্ট হচ্ছে কৃষকদের। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
গোয়াইনঘাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বোরো ধানের চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১০ হাজার ৪০ হেক্টর জমি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার ৩০ হেক্টর জমি আবাদ হয়েছে। তবে এসব এলাকায় তীব্র সেচ সংকট রয়েছে।
কৃষি অফিস জানায়, উপজেলায় ছোট-বড় অন্তত ৬০টি হাওর রয়েছে। বিগত বছর বন্যা না হওয়ার কারণে এবং দীর্ঘ সময় থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় হাওর, খাল, বিলে পানির মজুদ থাকে না। পাশাপাশি উপজেলার বিলগুলো আগেভাগে ফিশিং হওয়ার কারণে তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। তারা জানান, প্রতিবছর বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এ বছর পানির সংকট থাকার কারণে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের কৃষক ইমাম উদ্দিন বলেন, কৃষকের দুঃখ দেখার কেউ নেই। দিগুণ টাকা দিয়েও পানি পাই না। রোপণ করা জমির ভেতরে জুতা পায়ে দিয়ে হাঁটা যায়। পানির অভাবে বর্তমানে জমির পরিচর্যা কাজ বন্ধ। ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।
কৃষক মতিউর রহমান বলেন, পানির আশায় বোরো ধান চাষ করি। পরে আর পানি মেলে না। অনেক টাকা খরচ করে শূন্য হাতে ফিরতে হয়। ফসল বাঁচানোর জন্য অনেক দূর থেকে পানি আনতে হয়। মৌসুমের শুরুতে কিছু পানি পাওয়া গেলেও মাঝামাঝি সময়ে একেবারেই পাওয়া যায় না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রনি বলেন, বিগত তিন-চার মধ্যে বছরের মধ্যে এমন পানি সংকট দেখা দেয়নি। এ বছর উপজেলায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিলগুলো আগেভাগে ফিশিং ও দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ার কারণে পানির মজুদ না থাকায় এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এখন বৃষ্টি না হলে কৃষকের বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, সেচ ব্যবস্থার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে খাল খননের পরিকল্পনা করে রাখা হয়েছে। নতুন সরকার এসেছে। আশা করি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




