ছবি:সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেছেন, দক্ষিণ সুরমা দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কারণে উন্নয়নবঞ্চিত ছিল। অবহেলার সেই চিত্র থেকে এলাকাকে বের করে এনে টেকসই উন্নয়নের আওতায় নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ ২০২৬) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম এলাকায় সফরকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী জননেতা তারেক রহমান-এর শ্বশুর, রিয়ার এডমিরাল মরহুম মাহবুব আলী খানের বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সরেজমিনে ঘুরে দেখেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেট-৩ আসনের অন্তর্ভুক্ত দক্ষিণ সুরমা গত প্রায় ১৯ বছর ধরে অবহেলিত ছিল। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা, খেলার মাঠ ও খাল-বিল-সবখানেই অবকাঠামোগত দুরবস্থা দেখা গেছে।’
তিনি আরও বলেন, একসঙ্গে সব উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব না হলেও জরুরি ও অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প দ্রুত শুরু করা হবে। আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সরেজমিন পরিদর্শনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হলে সরকার তা বিবেচনা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট মহানগর প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সংসদ হুইপ জিকে গউস, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমন্বয়ক কামালউদ্দিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এম এ মালিক তাঁর বক্তব্যে বলেন, দক্ষিণ সুরমার অবকাঠামোগত উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। শিক্ষা, চিকিৎসা ও হাসপাতাল সুবিধা সম্প্রসারণ, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কালভার্ট, ব্রিজ ও ফেরিঘাট নির্মাণসহ মৌলিক খাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি তোলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী পূর্বে সিলেট সফরকালে বিভিন্ন উন্নয়ন ঘোষণা দিয়েছেন এবং জেলার ১৮টি আসনে জনগণের সমর্থন সরকারের প্রতি আস্থার প্রতিফলন। তবে দক্ষিণ সুরমার কিছু এলাকা দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জবাসীর মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, এ সফরের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ সুরমার উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




