ছবি:সংগৃহীত
সিলেট সদর উপজেলার এয়ারপোর্ট এলাকার বাইপাস সড়কে চেকপোস্টে পুলিশের সরকারি ওয়াকিটকি, একটি প্রাইভেটকার ও চাইনিজ কুড়ালসহ আটক গণঅধিকার পরিষদ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার আহ্বায়ক লিটন মিয়া ও গাড়িচালক জুনায়েদ আহমদকে একদিনের রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এয়ারপোর্ট থানার এসআই মোহাম্মদ বাবুল মিয়া জানান, ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়া ও ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) আমলি আদালত-৬ এ দুজনের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রিমান্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হলেও এখনো তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে সরকারি ওয়াকিটকি ব্যবহার ও প্রাইভেটকারের মালিক হওয়া সত্ত্বেও ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলম (প্রত্যাহার)কে মামলায় আসামি করা হয়নি-এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশের দাবি, উদ্ধারকৃত ওয়াকিটকিটি মটোরোলা কোম্পানির (মডেল নং-AZHO2RDH9VA1AN), যা মালয়েশিয়ায় প্রস্তুত। এছাড়া একটি চাইনিজ কুড়াল ও ঢাকা মেট্রো-গ ১৭-১৪২৯ নম্বরের প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকা।
ঘটনার বিবরণে পুলিশ জানায়, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে এয়ারপোর্ট বাইপাস এলাকায় চেকপোস্ট চলাকালে এসআই কামরুল আলমের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি আটক করা হয়। তল্লাশিতে গাড়ি থেকে পুলিশের ওয়াকিটকি ও কুড়াল উদ্ধার করা হয় এবং লিটন মিয়া ও জুনায়েদ আহমদকে আটক করা হয়।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে কারাবন্দি লিটনের বড় ভাই মরম আলী অভিযোগ করেন, ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে পরিকল্পিতভাবে ‘ডাকাতির প্রস্তুতি’ মামলা দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, ঘটনার আগের রাতে এসআই কামরুল নিজ গাড়িতে সিলেট নগরের উদ্দেশ্যে রওনা হলে পরিচিত হওয়ায় লিটনকে সঙ্গে নেন। পরে কোম্পানীগঞ্জের পাড়ুয়া এলাকায় সংঘর্ষের খবর পেয়ে এসআই কামরুল মাঝপথে নেমে যান। এরপর গাড়িটি লিটন ও চালকসহ সিলেটের দিকে আসে।
মরম আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, চেকপোস্টে আটকের পর তারা কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের জানান যে গাড়ি ও ওয়াকিটকি এসআই কামরুলের। ফোনে যোগাযোগ করলে এসআই কামরুল ঘটনাস্থলে এসে মালিকানা স্বীকারও করেন। তবে পরবর্তীতে প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে লিটন ও জুনায়েদকে ‘ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক’ দেখিয়ে মামলা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (প্রত্যাহারকৃত) এসআই কামরুল আলম পূর্বে বলেন, ওয়াকিটকি ও প্রাইভেটকার দুটিই তার এবং আটক লিটন তার বন্ধু। পাড়ুয়া এলাকায় সংঘর্ষের প্রস্তুতির খবর পেয়ে তারা সেখানে যান। সেখানে একটি দেশীয় কুড়াল পেয়ে সেটি গাড়িতে তোলা হয়। পরে গাড়িতে গ্যাস নেওয়ার সময় লিটন ও জুনায়েদ আটক হন বলে তিনি দাবি করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




