তারেক রহমান যেন জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি
মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫১ AM

তারেক রহমান যেন জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩/০৩/২০২৬ ০২:১৯:২৯ PM

তারেক রহমান যেন জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি


ব্যবহারে বংশের পরিচয়- কথাটি চিরন্তন সত্য। কারণ মা বাবার আচরণ ধারণ এবং বহন করে সন্তান। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের চলন-বলন, গভীর দেশপ্রেম আমার মতো অনেকেই শুধু গল্পে শুনেছি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অতি সাধারণ বেশে চলাফেরা দেশের বরেণ্যজনসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে সম্পর্কের যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলেছেন, তা এক কথায় অসাধারণ। সবার সাথে কুশল বিনিময়, কথাবার্তা, মিশে যাওয়া- মনে হচ্ছে আজকের প্রধানমন্ত্রী যেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানেরই প্রতিচ্ছবি। পরিবর্তনের বিস্ময়কর উন্নতির পথে তিনি রাষ্ট্র ও সমাজকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চিন্তা, কাজ, আচরণ জন-আকাঙ্ক্ষাকে দারুণভাবে স্পর্শ করেছে।

পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিদিন তার বক্তব্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে যে বিষোদগার করতেন, এ ক্ষেত্রে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাকে তির্যক ভাষায় আঘাত করে রাজপথে অনেকেই স্লোগান দিচ্ছেন। কিন্তু তিনি নীরব, জবাব দিচ্ছেন না। তার মনোযোগ অন্যদিকে- দেশবাসীকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, সমালোচনার জবাব দেওয়া নয়।

তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিংবা আজকের বিরোধী দলের কারো সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য থেকে একদম বিরত। তাঁর চিন্তা, কর্মকৌশলে যুগান্তকারী পরিবর্তনে দেশের মানুষ খুবই উচ্ছ্বসিত। জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির কতগুলো বেয়াদবের লাগামহীন ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণে বিএনপির নেতাকর্মীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম। তবে প্রধানমন্ত্রী কিংবা বিএনপির নেতাকর্মীদের অতিউদারতা ও নমনীয়তার সুযোগ নিয়ে জুলাই ব্যবসায়ী এই বেয়াদবরা যেন দেশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে না পারে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। এদের এখনই কঠোরভাবে দমন করতে ব্যর্থ হলে সরকার বিএনপি এবং দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। বেয়াদব নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী, সার্জিস আলম গংদের গডফাদার কারা দেশবাসী জানে। এরা নানা পরিস্থিতিতে চরিত্রে পাল্টে যাওয়া শয়তান। এদেরকে চিহ্নিত করে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। এরা কোনোভাবেই দেশের জন্য কল্যাণকর নয়। এরা সুযোগসন্ধানী, ভণ্ড, প্রতারক। এরা কখনো গুপ্ত, কখনো চেতনা ব্যবসায়ী দেশ-বিধ্বংসী নেতা। আমি চাই আমার কোনো শত্রুও যেন কখনো তাদের বন্ধু না হয়, কারণ এরা নির্দয়, পাষণ্ড। এরা কারো বন্ধু হয়ে বেশিদিন থাকতে পারে না। এদের মধ্যে দেশপ্রেম নেই বললেই চলে। এরা ইন্সুরেন্স কোম্পানির মতো, শুধু কর্মীদের অতিলোভনীয় অফার দিয়ে তাদের কার্যক্রমে ব্যস্ত রাখে। ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে জয়েন্ট করার পরে কেউ এক্সিডেন্টে মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবার বীমার পুরো টাকার একসাথে পেয়ে যায়, হাত-পা ভাঙলে কিংবা অঙ্গহানি হলে ইন্সুরেন্স কোম্পানি নির্ধারিত টাকা পরিশোধ করে। তারাও তাদের কর্মীদের মৃত্যুর ঝুঁকিতে এভাবে রাখে- তোমার হাত-পা ভাঙলে কিংবা মৃত্যুবরণ করলে আমরা তো আছি তোমার সাথে, তোমার পরিবারের সাথে। তুমি জীবিত থাকলে আমাদের বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরি পাবে আর মৃত্যুবরণ করলে তোমার পরিবার বেশকিছু টাকা পাবে, তুমি পাবে শহীদি মৃত্যু। এই কারণে এদের কর্মীরা উগ্র আর অসম্ভব বেয়াদব হয়। নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী, হাসনাত, সার্জিসদের মুখের ভাষা কোনোভাবেই কি রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে? এদের ব্যবসা হলো আবেগী সহজ-সরল কর্মীদের নিয়ে। এদের সম্পর্কে বেশি কিছু লিখতে রুচিতে বাঁধে। হাদির জন্য খুব দুঃখ হয়। এমন মৃত্যু নিশ্চয়ই কারো কাম্য নয়। তার হত্যাকারীদের দ্রুত প্রকাশ্যে ফাঁসি দেয়ার দাবি করছি।

দেশবাসী গভীর উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিরাপত্তা ও নিরাপদে বেঁচে থাকা নিয়ে। কারণ তাঁর অতি সহজ-সরল আচরণ, চলাফেরা, মানুষের সাথে মিশে যাওয়া, এতে তার জীবনহানির শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অল্প দিনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর যে কার্যক্রম, তাতে দেশবাসী সত্যি মুগ্ধ, অভিভূত। চরম বিপর্যস্ত অর্থনীতির বোঝা কাঁধে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে মন্ত্রী, এমপি, সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন, তাতে অভুতপূর্ব পরিবর্তন আসছে সর্বত্র সবার মাঝে। তাঁর কাছে দেশবাসীর প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেছে।

বিএনপি সরকারের ফ্যামিলি কার্ডের শুভযাত্রা অবিশ্বাস্য এক সাফল্য, যারা এই কার্ডের সুবিধা পেয়েছেন তারা কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ করতে পারবেন। দেশের মানুষ এখন স্বপ্ন দেখছে তারেক রহমান যেন তার বাবা-মায়ের চেয়েও নেতৃত্বগুণে সুখী-সমৃদ্ধ-স্বর্নিভর রাষ্ট্র পূনঃগঠনে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন। দুর্নীতিবাজ-চাঁদাবাজদের নির্মূল করাটাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। এই যুদ্ধে বিজয়ী হলে এটা হবে বড় সাফল্য, এতে নিশ্চিত হবে দেশের অগ্রগতি। 

মানবিক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সর্বাবস্থায় আল্লাহ যেন হেফাজত করেন, এটাই আজ দেশবাসীর প্রার্থনা। মহান আল্লাহ যেন তাঁর সহায় হোন। 


লেখক: মো. নিজাম উদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি

জৈন্তা বার্তা/আরআর