ছবি:সংগৃহীত
সিলেট নগরী ও জেলার সাড়ে ৪ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। আজ সোমবার থেকে মাসব্যাপী এ ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে, যা চলবে ১০ মে পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এর মধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬৮ হাজার ৫৪০ জন এবং জেলার ১৩টি উপজেলায় ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫১৪ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হবে।
রোববার সিলেট জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও সিটি করপোরেশনের পৃথক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায়। আজ সকালে নগরীর অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই দিনে জৈন্তাপুরের চিকনাগুল এলাকায় আরেকটি বিদ্যালয়ে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘শিশুদের সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে এ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত জনবল থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে প্রতিটি শিশুর কাছে টিকা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’
ক্যাম্পেইন সফল করতে ব্যাপক প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘মানুষকে এই কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। গণমাধ্যমকর্মীরা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।’ পাশাপাশি জুমার খুতবা ও ধর্মীয় উপদেশের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে মসজিদের ইমাম ও মন্দিরের পুরোহিতদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময় সচেতনতার অভাবে শিশুরা টিকা থেকে বঞ্চিত হয়। তাই অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে, যাতে নির্ধারিত সময়ে কোনো শিশুই টিকা গ্রহণ থেকে বাদ না পড়ে।’
সভায় আরও বক্তব্য দেন সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ডা. ফজলুল কাদের এবং ইউনিসেফের ডা. নভজ্যোতি দে। এ সময় সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, ‘জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেটেও সকল শিশুকে এক ডোজ এমআর টিকা দেওয়া হবে। প্রথমে কমিউনিটি পর্যায়ে এবং পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিদিন ৮৪টি টিম কাজ করবে, যেখানে প্রতিটি দলে থাকবেন ২ জন ভ্যাকসিনেটর ও ৩ জন স্বেচ্ছাসেবী।’
তিনি আরও বলেন, ‘কমিউনিটি পর্যায়ে ৮ কর্মদিবস এবং স্কুল পর্যায়ে ৬ কর্মদিবস এ কার্যক্রম চলবে। নির্ধারিত সময়ে কেউ টিকা নিতে না পারলে পরবর্তীতে স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র থেকেও টিকা গ্রহণ করা যাবে।’
অন্যদিকে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন জানান, ‘জেলায় ২ হাজার ৪৬১টি কেন্দ্রের মাধ্যমে এই টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫১৪ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




