ছবি:সংগৃহীত
গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিন-রাত ঘন ঘন চলছে লোডশেডিং। কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা, যারা তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও টানা ৩ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে করে ঘরের কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রমসহ সবকিছুতে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানপাটে ক্রেতাদের ভিড় কমে গেছে। অনেক ব্যবসায়ী জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লেও তেল সংকট ও বাড়তি খরচের কারণে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ীরা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে।
এদিকে, প্রচ- গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষ ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না। অনেক পরিবারে পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। কারণ বিদ্যুৎচালিত পানির পাম্প বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। সামনে তাদের বহুল প্রতীক্ষিত পরীক্ষা। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তারা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না।
গোলাপগঞ্জ উপজেলার একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, দিনে গরমে পড়া যায় না আর রাতে বিদ্যুৎ থাকে না। মোমবাতি বা চার্জ লাইট দিয়ে পড়তে হচ্ছে। কিন্তু এতে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন।
অভিভাবকরাও চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অনেকেই সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতি, জ্বালানি সংকট এবং কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি কোথাও কোথাও মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলার কারণেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘিœত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, লোডশেডিংয়ের নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় মানুষ আরও বেশি সমস্যায় পড়ছেন। অনেকেই অভিযোগ করছেন, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ফলে দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিকল্পনামতো করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অন্তত পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনায় রেখে নিরবচ্ছিন্ন বা সহনীয় মাত্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা উচিত। পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের একটি নির্দিষ্ট রুটিন প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




