মহাসড়কে অবৈধ পশুর হাট জনতার বাজার বন্ধের দাবিতে মা ন ব ব ন্ধ ন
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৭:২৬ PM

মহাসড়কে অবৈধ পশুর হাট জনতার বাজার বন্ধের দাবিতে মা ন ব ব ন্ধ ন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০/০৫/২০২৬ ০৬:১৬:৪৮ PM

মহাসড়কে অবৈধ পশুর হাট জনতার বাজার বন্ধের দাবিতে মা ন ব ব ন্ধ ন

সংগৃহীত


হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ও ঢাকা সিলেট মহাসড়কের গজনাইপুর ইউনিয়নের  মহাসড়কের পাশে বহুল আলোচিত জনতার বাজারে  পশুর হাট বসানো নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ এলাকাবাসীর দাবী অবৈধভাবে গড়ে উঠা জনতার বাজার  বন্ধের দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন দিনারপুর পরগণাবাসীর ব্যানারে আয়োজিত বিভিন্ন শ্রেণী পেশার সহস্রাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা। রবিবার (১০ মে) সকাল ১১টায় পুরাতন মেলার বাজারের সামনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও বৈধ মেলার বাজারের  ইজারাদারগণ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, নবীগঞ্জ উপজেলার সবচেয়ে আলোচিত  সমালোচিত জনতার বাজার নামে একটি পশুর হাট দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের ওপর অবৈধভাবে বসানো হচ্ছে। যে বাজারটি ইতিপূর্বে সেনাবাহিনী সহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ভন্ডুল করা হয়,সেই বাজারটি পূণরায় চালু করা মানে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সাথে ও আইনের সাথে সাংঘর্ষিক সৃষ্টি করা৷ একই এলাকায় সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী বৈধভাবে ইজারা দেওয়া একাধিক পশুর হাট থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে আরেকটি হাট পরিচালিত হওয়ায় বৈধ ইজারাদাররা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে।

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান  আবুল খয়ের গোলাপ এবং সঞ্চালনা করেন সমাজকর্মী  ওয়াহিদ মিয়া। বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সালিশ বিচারক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ডাঃ শাহ আবুল খয়ের, সমাজ সেবক  আব্দুল রশিদ, ময়না মিয়া, জাহিদ মেম্বার, আলতাফ মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বক্তারা বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতার কারণেই অবৈধ পশুর হাট বন্ধ হচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে অবৈধ হাট উচ্ছেদে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য, উপজেলা নদীতেপ্রশাসনের প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকলে তারা অভিযান পরিচালনা করতে পারবে না। এভাবে এক পক্ষ আরেক পক্ষের ওপর দায় চাপিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তালবাহানা করা হচ্ছে।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, মহাসড়কের ওপর পশুর হাট বসানোর বিষয়ে সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতসব নিষেধাজ্ঞার পরও কীভাবে জনতার বাজারে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে পশুর হাট বসানো হচ্ছে—এ প্রশ্ন স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

তাদের দাবি, একই এলাকায় সরকারি নিয়মে ইজারা নেওয়া বৈধ পশুর হাটগুলোর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। অবৈধ হাটের কারণে ক্রেতা-বিক্রেতারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন, সরকারি রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সমাবেশ থেকে বক্তারা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, এই সময়ের মধ্যে প্রশাসন যদি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। এর মধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, ইউএনও অফিস ঘেরাও এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

বক্তারা বলেন, অবৈধ পশুর হাট বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। স্থানীয় জনগণের স্বার্থ, বৈধ ইজারাদারদের অধিকার এবং মহাসড়কের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা