এআই দিয়ে করা
শেখ ফয়ছল আহমদ, ওসমানীনগর প্রতিনিধি :
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, ছিনতাই, জালিয়াতি, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ, প্রাণী নির্যাতন এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়মসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরাধ দমনে কার্যকর উদ্যোগের অভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তিনজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার মালামাল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় শিক্ষক সমাজের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। একই সময়ে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় অবৈধ জিরা আটকের ঘটনাও এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এছাড়া পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে জাল কাগজপত্র তৈরি করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযোগ রয়েছে, বাজার মনিটরিং দুর্বল হওয়ায় ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ময়লা-আবর্জনা অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে খাল, নদী ও সরকারি জমি দখলের ঘটনাও বাড়ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, অবৈধ দখলের কারণে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সম্প্রতি তাজপুর এলাকায় সরকারি চাল আটকের ঘটনায়ও জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে উসমানপুর এলাকায় কুকুর হত্যার চেষ্টা এবং পশ্চিম পৈলনপুরে বিষ প্রয়োগে প্রায় দুই শতাধিক হাঁস মারা যাওয়ার ঘটনায় প্রাণীপ্রেমী ও সচেতন মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এদিকে কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ, থানায় মামলা দায়ের করতে গিয়ে তারা নানা জটিলতা ও হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছেন।
এ বিষয়ে ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোর্শেদুল হক ভূইয়া বলেন, ওসমানীনগরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। জনগণকে গুজবে কান না দিয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনমুন নাহার আশা বলেন, “উপজেলার বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। বাজার মনিটরিং, সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




