প্রকৃতিতে কৃষ্ণচূড়ার আগুনরঙা হাসি
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৮:৩৪ PM

প্রকৃতিতে কৃষ্ণচূড়ার আগুনরঙা হাসি

রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭/০৫/২০২৬ ০২:৩৪:৫৭ PM

প্রকৃতিতে কৃষ্ণচূড়ার আগুনরঙা হাসি

ছবি নিজস্ব


গ্রীষ্মের দহনজ্বালা যখন জনজীবনকে ক্লান্ত করে তোলে, তখন প্রকৃতি যেন নিজের তুলিতে আঁকে অনন্য রঙের ছবি। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে এখন সেই ছবিই জীবন্ত রূপে ফুটেছে কৃষ্ণচূড়ায়। সবুজ পাতার ফাঁকে উজ্জ্বল লাল ফুল যেন আগুন হয়ে জ্বলছে। আর তাতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে গ্রামীণ মেঠোপথ।

জগন্নাথপুরে বিভিন্ন সড়ক ধরে এগোলে চোখে পড়ে লাল ফুলের সারি। জগন্নাথপুর পৌরসভা থেকে শুরু করে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম- সবখানেই এখন কৃষ্ণচূড়ার রঙিন ছোঁয়া। দূর থেকে মনে হয়, বৈশাখের তপ্ত রোদ মাটিতে নেমে এসে ফুল হয়ে ফুটেছে। প্রকৃতির এই অপরূপ সাজ যেন শিল্পীর আঁকা ক্যানভাস।

এই সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন পথচারী থেকে শুরু করে পর্যটকরা। অনেকেই থেমে যাচ্ছেন, ক্যামেরাবন্দি করছেন মুহূর্তগুলো। স্থানীয় তরুণ-তরুণীরা স্মার্টফোনে ধারণ করা সেই দৃশ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন সামাজিক মাধ্যমে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গরমের এই নিরস সময়ে কৃষ্ণচূড়া প্রকৃতিকে দিয়েছে নতুন প্রাণ। সবুজের মাঝে রক্তিম ফুল মনকে করে তোলে প্রফুল্ল। রোদ কিংবা বৃষ্টির পর রৌদ্রোজ্জ্বল বিকালে এই ফুলের সৌন্দর্য যেন আরও দ্বিগুণ হয়ে ওঠে। তবে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে এক ধরনের শঙ্কাও। দর্শনার্থীরা বলছেন, দিন দিন কমে যাচ্ছে এই রঙিন গাছের সংখ্যা। উদ্ভিদবিদদের মতে, লাল, হলুদ ও সাদা এই তিন রঙের ফুলের মধ্যে সাদা কৃষ্ণচূড়া সবচেয়ে দুষ্প্রাপ্য।

রমাপতিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মুনায়ুম কবীর বলেন, কৃষ্ণচূড়া প্রকৃতির এক অনন্য উপহার। এই বৈশাখী খরায় প্রকৃতিকে শান্ত রাখতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বেশি করে কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানো প্রয়োজন।

জগন্নাথপুরের প্রবীণ সাংবাদিক অমিত দেব বলেন, গ্রীষ্মে প্রকৃতি তার নিজস্ব ছন্দে ফিরে আসে। নতুন পাতা, ফুল আর ফলে ভরে ওঠে চারদিক। তার মধ্যে কৃষ্ণচূড়ার এই লাল রঙ যেন প্রকৃতির হাসি। প্রকৃতির এই রঙিন হাসি যেন শুধু চোখ জুড়ায় না, মনে জাগায় নতুন আশাও। যদি আমরা যত্নে রাখি, তবে এই লাল আগুনরঙা সৌন্দর্য আরও বহুদিন বাঁচিয়ে রাখা যাবে।

জৈন্তাবার্তা / আরআর



শীর্ষ সংবাদ: