নিজস্ব
সুনামগঞ্জের ছাতকে তরুণী গণধর্ষণ মামলায় তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। আজ সোমবার দুপুরে এই দণ্ডাদেশ দেন সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের হাসামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালিকের ছেলে মতিউর রহমান মতিন, খোয়াজ আলীর ছেলে দিলদার হোসেন ও কামারগাঁও গ্রামের হাবিবুর ইসলামের ছেলে বিল্লাল হোসেন।
মামলা সূত্রে জানা যায় ২০২১ সালের ১১ আগস্ট সকালে নানাবাড়ি যাওয়ার পথে ছাতকের ওই তরুণীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় হাসামপুর গ্রামের বখাটে যুবক মতিউর রহমান ও দিলদার হোসেন। উপজেলার সিংচাপইড় গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়িতে তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন ওই দুই যুবক। পরবর্তীতে ধর্ষকদের সহযোগিতায় আসামি বিল্লালসহ আরও এক যুবক ভিক্টিম তরুণীকে অন্য গ্রামে নিয়ে ধর্ষণ করে।ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়রা ধর্ষকদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত তিন ধর্ষকসহ ৫ জনকে আসামি করে ছাতক থানায় মামলা দায়ের করেন ধর্ষিত তরুণীর ভাই।
পুলিশ অভিযুক্তদের বিষয়ে আদালতে চার্জ দাখিল করলে সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানী শেষ সোমবার আলোচিত এই মামলার রায় দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাব্রুনালের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ।
রায়ে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ এর ৭ ধারায় মতিউর রহমান মতিন ও দিলদার হোসেনকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং একই আইনে ৯ এর ৩ ধারায় দুজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লক্ষ টাকার অর্থদন্ড অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং অপর আসামি বিল্লাল হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকার অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।
অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলা থেকে আব্দুস সোবহান নামের একজনকে বেকসুর খালা দেয়া হয়।মামলার রায় শুনানীর সমায় মতিউর রহমান ও দিলদার হোসেন উপস্থিত থাকলেও দণ্ডিত অপর আসামি বিল্লাল পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্রুনালের পিপি মো. শামসুর রহমান।
এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




