বদরউদ্দিন কামরানের মৃ'ত্যুবার্ষিকী আজ
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৫৫ PM

বদরউদ্দিন কামরানের মৃ'ত্যুবার্ষিকী আজ

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫/০৬/২০২৬ ০২:০৪:২৬ PM

বদরউদ্দিন কামরানের মৃ'ত্যুবার্ষিকী আজ


সিলেটের রাজনীতিতে এবং নগর পরিচালনায় এক পরিচিত নাম ছিলেন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। মৃত্যুর ছয় বছর পরও তিনি সিলেটের মানুষের স্মৃতিতে রয়ে গেছেন একজন জনমুখী রাজনীতিক ও গণমানুষের নেতা হিসেবে। আজ ১৫ জুন তাঁর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী।

২০২০ সালের এই দিনে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র কামরান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।

করোনার প্রথম দিকের ভয়াবহ সময়ে ৫ জুন তাঁর শরীরে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এর আগে ২৭ মে তাঁর স্ত্রী আসমা কামরানেরও করোনা ধরা পড়ে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৭ জুন তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয় এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ জুন ভোরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি সিলেটে জন্ম নেওয়া কামরানের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ছাত্রজীবনেই। উচ্চমাধ্যমিকে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৭৩ সালে তিনি প্রথমবারের মতো সিলেট পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৫ সালে পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান।

২০০২ সালে সিলেট পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলে কামরান প্রথম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরের বছর অনুষ্ঠিত প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ী হয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন।

রাজনৈতিক জীবনে নানা উত্থান-পতনেরও সাক্ষী ছিলেন তিনি। ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গ্রেপ্তার হলেও কারাগারে থেকেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হন। ২০১৩ সালে তিনি মেয়র নির্বাচনে পরাজিত হন বর্তমান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী–এর কাছে। ২০১৮ সালেও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিজয়ী হতে পারেননি।

নগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও ছিল তাঁর দীর্ঘ পথচলা। ১৯৮৯ সাল থেকে সিলেট শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০২ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় দেড় দশক ওই দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই পদে দায়িত্ব পালন করেন।

ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের আলোচনায় এখনও উচ্চারিত হয় কামরানের নাম। তাঁর অনুসারীদের মতে, মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ, সহজ-সরল জীবনযাপন এবং দল-মত নির্বিশেষে সবার পাশে দাঁড়ানোর কারণেই তিনি আজও সিলেটবাসীর স্মৃতিতে অমলিন।

জৈন্তাবার্তা/আরআর