আজমিরীগঞ্জে ঋণের ও পাওনাদারদের চাপে কীটনাশক পান করে প্রান্তিক কৃষকের আ ত্ম হ ত্যা র চেষ্টা।
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৯ PM

আজমিরীগঞ্জে ঋণের ও পাওনাদারদের চাপে কীটনাশক পান করে প্রান্তিক কৃষকের আ ত্ম হ ত্যা র চেষ্টা।

আশিকুর রহমান, আজমিরীগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩/০৭/২০২৬ ০৬:০৭:৫২ PM

আজমিরীগঞ্জে ঋণের ও পাওনাদারদের চাপে কীটনাশক পান করে প্রান্তিক কৃষকের আ ত্ম হ ত্যা র চেষ্টা।

নিজস্ব


ঋণের চাপ ও পাওনাদারদের হয়রানির অভিযোগে হবিগঞ্জ জেলার  আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের বদলপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক ধনু দাস (৫৫) কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। ১৩(জুলাই)  সোমবার সকালে তাহার নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।গুরুতর অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরন  করেন।
আজমিরীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত অভিযোগ করেন। ধনু দাসের অভিযোগ, বদলপুর ইউনিয়নের শুপ্রশন্ন চক্রবর্তীর মাধ্যমে আজমিরীগঞ্জ পৌর এলাকার নগর গ্রামের কামাল মিয়ার কাছ থেকে সুদে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন। সুদ-আসল মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার টাকা পরিশোধের পর গত অগ্রহায়ণ মাসে ফের দেড় লাখ টাকা ঋণ নেন।কিন্তু বৈশাখ মাসের বন্যায় তার ফসল তলিয়ে যাওয়ায় ঋণ পরিশোধে অক্ষম হয়ে পড়েন। এরপর থেকেই পাওনাদারদের চাপ বাড়তে থাকে।তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন আগে কামাল মিয়া ও শুপ্রশন্ন চক্রবর্তী তাকে বাড়িতে না পেয়ে বৃদ্ধ মাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং স্ত্রীকে ভয়ভীতি দেখান। রোববার রাতে বদলপুর বাজারে তাকে আটকে ঋণের টাকা চেয়ে মারধরও করা হয়। অপমান ও ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে সোমবার সকালে পরিবারের অগোচরে কীটনাশক পান করেন।
ধনু দাস আরও অভিযোগ করেন, ঋণ নেওয়ার সময় ধাপে ধাপে শুপ্রশন্ন চক্রবর্তীকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার মদ কিনে দিতে হয়েছে।
পাওনাদার  কামাল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে  বলেন, ধনু দাস বাড়ি বন্ধক রেখে তার কাছ থেকে হাঁসের বাচ্চা ও খাদ্য বাকিতে নিয়েছিলেন। বর্তমানে ধনু দাসের কাছে তার প্রায় আড়াই লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, শুধু পাওনা টাকা চাওয়া হয়েছে, কোনো দুর্ব্যবহার করা হয়নি।
শুপ্রশন্ন চক্রবর্তী বলেন, তিনি কামাল মিয়ার পক্ষে পাওনা আদায় ও ঋণ বিতরণের কাজ করেন। তার দাবি, ধনু দাস দেড় লাখ টাকা নিয়েছিলেন এবং সময়মতো পরিশোধ না করায় কেবল পাওনা আদায়ের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে। মারধর, অপমান ও মদ নেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।ধনু দাসের ছেলে রৌদ্র দাস বলেন, তার বাবা কখনো হাঁসের খামার করেননি। কামাল মিয়ার দাবি সঠিক নয়। তিনি বলেন, উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে তার বাবা একটি ভিটাবাড়ি কিনেছিলেন এবং চার কিয়ার জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। বৈশাখের বন্যায় সেই ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আকবর হোসেন বলেন, "ঘটনাটি সম্পর্কে আমি এখনো অবগত নই।"

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা



শীর্ষ সংবাদ:

১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
গোয়াইনঘাটে সড়কের কাজে দুইমাসেই বিভিন্ন জায়গায় গ*র্তের সৃষ্টি ক্ষো*ভে ফুঁসছে এলাকাবাসী
ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনায় তলিয়ে যাচ্ছে রাস্তাঘাট, ভো'গান্তিতে জগন্নাথপুরবাসী
বাড়ছে নদ-নদীর পানি, সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার আশ'ঙ্কা
পাঁচ জেলায় বন্যায় মৃ'ত্যু বেড়ে ৫১
ব্রিটেনে ১২ মাসের ওয়ার্ক পারমিটে পরিবার নিয়ে যাওয়ার সুযোগ
ঢাকা-সিলেট ছয় লেন প্রকল্পে বড় ধা*ক্কা, শেষ হতে লাগতে পারে আরও তিন বছর
নগরবাসীর দুর্ভো*গ কমাতে উন্নয়নকাজ চলছে দিনরাত: সিসিক প্রশাসক
বিয়ানীবাজারে আলী হেসেন হ*ত্যা: অ*ভিযুক্তের খোঁজে পুলিশের অ*ভিযান
প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে ক্ষো*ভ, মেয়েকে হ*ত্যার দা*য় স্বীকার করলেন বাবা