জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি পেল বিয়ানীবাজারের খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৯ PM

মানবিক মানুষ গড়ে তুলতে শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি পেল বিয়ানীবাজারের খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫/০৭/২০২৬ ০৭:৩১:২৬ PM

জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি পেল বিয়ানীবাজারের খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ছবি:সংগৃহীত


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুদের মানবিক, নৈতিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬-এ সারা দেশের শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক–২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। খেয়াল রাখতে হবে, কোনো শিশু যেন নির্দয় হয়ে বড় না হয়-তা মানুষ, প্রাণী কিংবা পশুপাখির প্রতিই হোক না কেন। দেশ গড়তে মানবিক সৈনিক প্রয়োজন, আর সেই মানবিক সৈনিক গড়ে তোলার দায়িত্ব শিক্ষকদের।’

তিনি বলেন, শিশুদের মধ্যে নৈতিকতা, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দেন তিনি।

শিশুদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও পরিবেশ সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন প্রতি বছর অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করে। তিনি বলেন, “গাছ যেমন বড় হবে, তেমনি তোমরাও বড় হবে। গাছই হবে তোমাদের বন্ধু।”

জাতীয় পর্যায়ে সেরা খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

এবারের জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক–২০২৬-এ দেশের শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বিয়ানীবাজার উপজেলার খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চূড়ান্ত মূল্যায়নে বিদ্যালয়টি মানসম্মত শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, সহশিক্ষা কার্যক্রম, পরিচ্ছন্ন ও শিশুবান্ধব পরিবেশ এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা অর্জন করে।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রধান শিক্ষক হাফছা বেগম প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে জাতীয় পদক গ্রহণ করেন।

এই অর্জনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। শিক্ষানুরাগীরা বলেন, এটি শুধু একটি বিদ্যালয়ের নয়, বরং বিয়ানীবাজার ও সমগ্র সিলেট অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি গর্বের অর্জন এবং অনুপ্রেরণার মাইলফলক।

পদক গ্রহণের পর অনুভূতি প্রকাশ করে প্রধান শিক্ষক হাফছা বেগম বলেন, ‘এ আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এই অর্জন আমাদের সবার। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা কমিটি এবং শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না। সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এ সময় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান করা হয়। পাশাপাশি শিশুদের অংশগ্রহণে বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ: