ছবি:সংগৃহীত
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, সিটি কর্পোরেশন একটি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। নাগরিকদের দ্রুত, সহজ ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণেও সিটি কর্পোরেশন কাজ করে যাচ্ছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) নগরীর খাদিমপাড়ায় সিসিকের অঞ্চল-২ কার্যালয়ের সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন এবং সকালে নগর ভবনে হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতেই সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডকে পাঁচটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি অঞ্চলে একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তার নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ সেবা কার্যক্রম চালু করা হবে। এতে নাগরিকদের ছোটখাটো সেবার জন্য আর নগর ভবনে যেতে হবে না; নিজ নিজ আঞ্চলিক কার্যালয় থেকেই প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
সিসিক প্রশাসক জানান, নাগরিকসেবা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে আগেভাগেই ড্রেন, ছড়া ও নালা-নর্দমা পরিষ্কার করা হয়েছে। ফলে এবার ভারী বৃষ্টিপাত হলেও নগরবাসীকে বড় ধরনের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে পড়তে হয়নি।
তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। এ জন্য নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতাও প্রয়োজন।
একই দিন সকালে নগর ভবনের সভাকক্ষে নগরীর ১৪টি স্যাটেলাইট স্কুলের হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা প্রসারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দরিদ্রতা যেন কোনো শিশুর শিক্ষাজীবনের প্রতিবন্ধক না হয়, সে লক্ষ্যেই সিলেট সিটি কর্পোরেশন সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষা সহায়তা প্রদান করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
অঞ্চল-২ কার্যালয়ের উদ্বোধন
খাদিমপাড়ায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার। তিনি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই অঞ্চল-২ কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব আঞ্চলিক কার্যালয় চালু হলে নাগরিকসেবা আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অঞ্চল-২-এর নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চন্দ্র দাশ।
এ সময় বক্তব্য দেন সিসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মাসুদ রানা, সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দেব, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন।
অনুষ্ঠানে সাবেক কাউন্সিলর, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন ওয়ার্ডের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সিসিকের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২১, ২২, ২৩, ২৪, ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে অঞ্চল-২ গঠন করা হয়েছে। এ কার্যালয় চালুর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার নাগরিকরা স্থানীয় পর্যায়েই বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
শিক্ষাসামগ্রী পেল ১৪ স্যাটেলাইট স্কুলের শিক্ষার্থীরা
এদিকে, সিসিকের বস্তি উন্নয়ন শাখার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার। এছাড়া বক্তব্য দেন বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আবুল ফজল খোকন এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি, পাঠাগার ও সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ।
অনুষ্ঠানে নগরীর ১৪টি স্যাটেলাইট স্কুলের হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ড্রেস, ব্যাগ, জুতা, মোজা, রিডিং টেবিল, খাতা, পেন্সিল, রাবার, শার্পনার, স্কেল, সাধারণ জ্ঞানের বই, ছবি আঁকার বই, রঙ পেন্সিল, ড্রয়িং খাতা এবং অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।
এ ছাড়া স্যাটেলাইট স্কুলগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে হাজিরা খাতা, রেজিস্টার, ব্ল্যাকবোর্ড, চক, ডাস্টার, জাতীয় পতাকা, দেয়াল ঘড়ি, স্ট্যাপলারসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রীও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




