ছবি:সংগৃহীত
সিলেট ও সুনামগঞ্জে পৃথক তিনটি অভিযানে অনলাইন জুয়া চক্রের চার সদস্য, ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী এবং কিশোরী অপহরণ মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯। একই সঙ্গে অপহৃত এক কিশোরীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) র্যাব-৯, সিলেটের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবির বাজার এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে অনলাইন জুয়া চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে ‘বধাদার্স টেলিকম’ নামে একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত চারটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মকবুল হোসেন (৩০), বাবুল মিয়া (২৮), সোয়েব আহমদ (৩৮) ও আব্দুল বাছিত (৩৬)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মোবাইল ফোনে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ায় অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র্যাব। তাদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ অনুযায়ী মামলা দিয়ে কুলাউড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
অপরদিকে, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুজিব বাজার এলাকায় পৃথক অভিযানে ৪৯ পিস ইয়াবাসহ মো. কাজল ইসলাম (৩২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা ইয়াবা সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দিয়ে তাকে বিশ্বম্ভরপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে, সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে কিশোরী অপহরণ মামলার প্রধান আসামি আইয়ূব নুর (২০)-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯। একই অভিযানে অপহৃত কিশোরীকেও উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, গত ২৫ জুন সন্ধ্যায় দিরাই উপজেলার মাছিমপুর এলাকায় নদীর ঘাট থেকে কিশোরীকে জোরপূর্বক নৌকায় তুলে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা দিরাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটে জগন্নাথপুর উপজেলার আমরারতল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি আইয়ূব নুরকে গ্রেপ্তার ও অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করে। পরে তাদের দিরাই থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯ জানিয়েছে, মাদক, অনলাইন জুয়া, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




