হাজারো পাখির কলকাকলিতে মুখর চিলাহাটি, অপেক্ষা সরকারি স্বীকৃতির
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪০ PM

হাজারো পাখির কলকাকলিতে মুখর চিলাহাটি, অপেক্ষা সরকারি স্বীকৃতির

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭/০৭/২০২৬ ০৩:২৬:২১ PM

হাজারো পাখির কলকাকলিতে মুখর চিলাহাটি, অপেক্ষা সরকারি স্বীকৃতির

সংগৃহীত


নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটির পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামটি এখন আর শুধু একটি গ্রাম নয়, সবার কাছে পরিচিতি পেয়েছে ‘পাখির গ্রাম’ হিসেবে। এটি হতে পারে দেশের একটি পর্যটন কেন্দ্র। সাড়ে ৪ একর স্থানজুড়ে বিস্তৃত একটি বাঁশঝাড়ে সাদা বক, পানকৌড়ি, রাতচরা, ঘুঘু ও শালিকসহ নাম জানা অজানা বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসবাস করছে। স্থানীয়রা বলছেন, তাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই পাখিরা এখানে নির্বিঘ্নে বসবাস করে আসছে।চারদিকে সবুজে ঘেরা বিশাল বাঁশঝাড়টির প্রতিটি ডালপালায় এখন পাখিদের বিচরণ। ভোরে পাখির কিচিরমিচির আর সন্ধ্যায় হাজার হাজার পাখির ডানার শব্দ ও কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। দীর্ঘদিন ধরে পাখিদের বসবাসের কারণে গ্রামের আদি নাম ছাপিয়ে ‘পাখির গ্রাম’ নামটিই বেশি পরিচিতি পেয়েছে।

বাঁশঝাড়ের মালিক মাজেদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে তাদের পরিবারের চতুর্থ প্রজন্ম এই পাখিদের আশ্রয়স্থল সংরক্ষণ করে আসছেন। আমার দাদার আমল থেকেই আমরা এই পাখিগুলোকে দেখে আসছি। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করি কেউ যেন পাখিদের ক্ষতি করতে না পারে। তবে ইদানিং কিছু অসাধু শিকারি ও পর্যাপ্ত সংরক্ষণের অভাবে পাখিদের সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সরকার এই এলাকাটিকে সরকারিভাবে অভয়াশ্রম ঘোষণা করলে পাখি নিধন হতো না।

স্থানীয় বাসিন্দা মোনতাজ আলী বলেন, এই গ্রামে পাখির এই অভয়ারণ্য দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা ভিড় জমান। আমরা গ্রামের সকলে মিলে চেষ্টা করি, যাতে এই পাখিগুলোকে কেউ বিরক্ত না করে। সরকার নজর দিলেই এটি হতে পারে দেশের একটি পর্যটন কেন্দ্র।দর্শনার্থী আলম হোসেন বলেন, এখানে প্রতিদিন আমাদের মতো অনেকেই আসেন পাখি দেখতে কিন্তু বসার ব্যবস্থা না থাকায় এসেই চলে যেতে হয়। এখানে সরকারিভাবে নজর দিলে এটি একটি দর্শনীয়স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ হতো।

ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, চিলাহাটির এই পাখির অভয়াশ্রমটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এরইমধ্যে সেখানে একটি পুকুর খননসহ কিছু সংস্কার কাজ করা হয়েছে। বনবিভাগ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে এই পাখির গ্রামটিকে আরও কীভাবে পর্যটনবান্ধব ও নিরাপদ করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা



শীর্ষ সংবাদ: