ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এক থ্রিলার ম্যাচের সাক্ষী হলো বিশ্ব। গোলবন্যার ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান অর্জন করে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে ইংল্যান্ড।
রবিবার মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে কিলিয়ান এমবাপে ও ওসমানে দেম্বেলের নৈপুণ্যে অবিশ্বাস্যভাবে ফিরে আসার চেষ্টা করে ফরাসিরা। তবে বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিক এবং শেষ মুহূর্তে জুড বেলিংহ্যামের গোলে ফরাসিদের উড়িয়ে উল্লাসে মাতে থ্রি-লায়নসরা।
প্রথমার্ধে চার গোলে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পাঁচ পরিবর্তন এনে অল-আউট আক্রমণ শুরু করেন দিদিয়ের দেশম। ম্যাচের ৪৮তম মিনিটে মাইকেল অলিসের পাস থেকে বল পেয়ে নিখুঁত শটে জালের নিচের ডান কোণে বল পাঠান অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে (৪-১)। এই গোলের মাধ্যমে ১৯৭০ সালের জার্ড মুলারের পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একক বিশ্বকাপে ৯টি গোলের কীর্তি গড়েন তিনি।
ফরাসিদের আক্রমণের তোড় আরও বাড়িয়ে ৫৪তম মিনিটে ব্যবধান ৪-২-এ নিয়ে আসেন বদলি হিসেবে নামা ব্র্যাডলি বারকোলা। এবারও অ্যাসিস্টের ভূমিকায় ছিলেন এমবাপে। এরপর ৬৬তম মিনিটে অলিসের ফ্লিক থেকে বল পেয়ে চমৎকার বাঁ পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপে (৪-৩)। এই গোলের মাধ্যমে লিওনেল মেসিকে (২১ গোল) টপকে ২২ গোল নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের একক সর্বোচ্চ গোলদাতার বিশ্বরেকর্ড গড়েন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
বিশ্বকাপে ৪ বা তার বেশি গোলে পিছিয়ে থেকে কোনো দল কখনো হার এড়াতে পারেনি। ফ্রান্স সেই রূপকথার খুব কাছে চলে এসেছিল। ফরাসি ঝড়ের মুখে টমাস টুখেল মাঝমাঠের শক্তি বাড়াতে ইভান টোনি ও এবেরেচি এজেকে উঠিয়ে জুড বেলিংহ্যাম ও এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে মাঠে নামান।
ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে পেনাল্টি বক্সে জেড স্পেন্সকে মালো গুস্তো ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। ৮৭তম মিনিটে স্পট কিক থেকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা (৫-৩)। ১৯৬৬ সালের ফাইনালে জিওফ হার্স্টের পর সাকাই প্রথম ইংলিশ ফুটবলার যিনি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করলেন।
তবে নাটকীয়তার তখনও বাকি ছিল। ম্যাচের ৯০+৬ মিনিটে ডেকলান রাইসের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে ফরাসি ডিফেন্ডার উপামেকানো পাস দেন দেম্বেলেকে। চালোহবকে পরাস্ত করে বাঁ পায়ের বুলেট গতির শটে বল জালে পাঠালে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-৪! সমতায় ফিরতে মরিয়া ফ্রান্স যখন অল-আউট আক্রমণে, ঠিক তখনই ম্যাচের শেষ মুহূর্তে (৯০+৮') ফ্রান্সের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকেন বদলি নামা বেলিংহ্যাম (৬-৪)।
এই জয়ের ফলে এক স্মরণীয় ও রোমাঞ্চকর ম্যাচ উপহার দিয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেই বিশ্বকাপ মিশন শেষ করল টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, বিদায়ী ম্যাচে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা হারলেও এমবাপ্পের বিশ্বরেকর্ড ও ফরাসিদের লড়াকু ফুটবল ফুটবলপ্রেমীদের মনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
জৈন্তাবার্তা/আরআর




