স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী চয়ন
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৩ PM

ডিগ্রি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ

স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী চয়ন

রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০/০৭/২০২৬ ০৩:০৬:০৮ PM

স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী চয়ন

ছবি:সংগৃহীত


 সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে বন্ধুর সহযোগিতায় শ্রুতিলেখন পদ্ধতিতে এবার ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের (ফাইনাল) পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী চয়ন তালুকদার।  চয়ন জগন্নাথপুর পৌরসভার ভবানীপুর গ্রামের নিতাই তালুকদারের ছেলে।  রোববার আব্দুস সোবহান উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় চয়ন বলেন, ‘সহপাঠী ছোট ভাইয়ের সহযোগিতায় আমি এতদূর আসতে পেরেছি। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি আমার প্রবল আগ্রহ ছিল। দুই চোখ অন্ধ থাকায় পড়ালেখা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। ছোট ভাই যখন পড়তে বসত, তখন তার পাশে বসে শুনে শুনেই আমি পড়া শিখতাম। পরে আমি মুখে বলতাম, অন্যজন লিখে দিত। এভাবেই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করে ডিগ্রিতে ভর্তি হই।’  তিনি জানান, এবার তাঁর শ্রুতিলেখক হিসেবে সহযোগিতা করছেন বন্ধু জাহেদ মিয়া। এর আগে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বন্ধু মাজহারুল ইসলাম শ্রুতিলেখকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।  শ্রুতিলেখক জাহেদ মিয়া বলেন, ‘চয়ন বলে, আর আমি খাতায় লিখে দিই। এতে আমাদের কোনো সমস্যা হয় না। সে খুব ভালো ছাত্র। তাকে সহযোগিতা করতে পেরে আমারও ভালো লাগে।’  চয়নের বাবা নিতাই তালুকদার বলেন, ‘জন্মগতভাবেই চয়নের দুই চোখ অন্ধ। তবুও ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ। ভাই-বোন একসঙ্গে পড়ালেখা করে এবার দুজনই ডিগ্রি পরীক্ষা দিচ্ছে। অভাব-অনটনের কারণে ঠিকমতো তাদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারছি না। তারপরও তাদের স্বপ্নপূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’  জগন্নাথপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সুরঞ্জিত কুমার সেন বলেন, ‘শিক্ষা বোর্ড থেকে শ্রুতিলেখকের অনুমতি এনে চয়নকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা তার সফলতা কামনা করি।’

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ