খোজারখলা পুকুরে উ*দ্ধার অ*ভিযান শুরু, ফিরছে হারানো প্রাণ
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:০৮ AM

‘অভিযোগের অপেক্ষায় নয়, দায়িত্ববোধ থেকেই উন্নয়ন করছি’- সিসিক প্রশাসক

খোজারখলা পুকুরে উ*দ্ধার অ*ভিযান শুরু, ফিরছে হারানো প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০/০৭/২০২৬ ০৭:৩৯:৩৬ PM

খোজারখলা পুকুরে উ*দ্ধার অ*ভিযান শুরু, ফিরছে হারানো প্রাণ

ছবি:সংগৃহীত


দক্ষিণ সুরমার খোজারখলা পুকুরে শুরু হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত উদ্ধার অভিযান। দীর্ঘদিনের অবহেলা, কচুরিপানা ও আবর্জনার দখলে হারিয়ে যাওয়া পুকুরটি এখন নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার পথে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে আধুনিক উইড হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করে পুকুরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কচুরিপানা, আগাছা ও আবর্জনা অপসারণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

খোজারখলা সমাজকল্যাণ সংঘের পেছনে অবস্থিত পুকুরটি একসময় এলাকাবাসীর দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। কিন্তু বছরের পর বছর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি কচুরিপানা ও আবর্জনায় ভরে যায়। সৃষ্টি হয় দুর্গন্ধ, বাড়ে মশার উপদ্রব এবং পরিবেশ দূষণ। নিরাপত্তা রেলিং না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও ছিল সবসময়।

প্রতিশ্রুতির এক সপ্তাহের মধ্যেই কাজ শুরু

কয়েকদিন আগে পুকুরটি সরেজমিন পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছিলেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সেই প্রতিশ্রুতির এক সপ্তাহের মধ্যেই উদ্ধার অভিযান শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ বিরাজ করছে।

অভিযানস্থল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘সিলেট নগরকে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের অঙ্গীকার। আমরা কারও দাবির অপেক্ষায় বসে থাকি না। জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করছি। নাগরিকদের সমস্যা দেখলেই দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াই আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

তিনি বলেন,‘খোজারখলা পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে কচুরিপানা ও আবর্জনায় সম্পূর্ণ ঢেকে ছিল। এতে পরিবেশ দূষণ যেমন বেড়েছে, তেমনি জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কয়েকদিন আগে এখানে এসে আমি এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেছিলাম, পুকুরটি উদ্ধার করা হবে। আজ সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। আমরা শুধু কচুরিপানা অপসারণ করেই থামব না, প্রয়োজনীয় খননের মাধ্যমে পুকুরটির জলধারণক্ষমতা ফিরিয়ে এনে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য পুনরুদ্ধার করব।’ তিনি আরও বলেন,‘একটি জলাধার শুধু সরকারের সম্পদ নয়, এটি এলাকাবাসীরও সম্পদ। তাই এটিকে রক্ষা করার দায়িত্বও সবার। সিটি কর্পোরেশন পরিষ্কার করবে, কিন্তু সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে এ ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হবে না। আমি সবাইকে আহ্বান জানাই-কেউ যেন এই পুকুরে ময়লা-আবর্জনা না ফেলেন এবং এর সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতন ভূমিকা পালন করেন।’
 
হাঁটার পথ ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা

সিসিক প্রশাসক জানান, ভবিষ্যতে পুকুরটির চারপাশে নিরাপদ হাঁটার পথ, বসার স্থান, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন,‘আমরা চাই এই পুকুরকে ঘিরে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পরিবেশ গড়ে উঠুক। শিশু, তরুণ, নারী ও প্রবীণ- সব বয়সী মানুষ যেন এখানে নিরাপদে হাঁটতে পারেন, বিশ্রাম নিতে পারেন এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে পারেন। এটি হবে দক্ষিণ সুরমার মানুষের জন্য একটি ছোট কিন্তু আকর্ষণীয় উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্র।’

এলাকাবাসীর স্বস্তি

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহু বছর ধরে পুকুরটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। বর্ষা মৌসুমে কচুরিপানা এত ঘন হয়ে যেত যে পানির অস্তিত্বই বোঝা যেত না। দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল আশপাশের মানুষ।

একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন,‘এই পুকুর একসময় আমাদের এলাকার গর্ব ছিল। আজ আবার পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই এটি আগের সৌন্দর্য ফিরে পাবে।’

জলাধার সংরক্ষণে সিসিকের বিশেষ উদ্যোগ

সিসিক প্রশাসন জানিয়েছে, নগরীর জলাধার সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। খোজারখলা পুকুর উদ্ধার সেই বৃহত্তর পরিকল্পনারই অংশ।

অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, খোজারখলা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আজমল আলী, সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কোহিনূর আহমদ, ২৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইকবাল কামাল, সাধারণ সম্পাদক মোশাইদ আহমদ, সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ, বাবুল আহমদ, জামাল উদ্দিন জেছলু, সাগর আহমদ, শিপু আহমদ, সোহেল আহমদ, রেনু, রাজু আহমদ, আজহার অনিক, শ্যামল আহমদ, রাসেল আহমদ, রুনু মিয়া, মিঠু শাহ, বেলাল আহমদ, আফজল উদ্দিন, রুজন আহমদ, কামালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী।

নতুন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে খোজারখলা পুকুর

যে পুকুরটি কিছুদিন আগেও ছিল অবহেলা ও দূষণের প্রতীক, সেখানে এখন চলছে পুনরুদ্ধারের কর্মযজ্ঞ। উইড হারভেস্টারের শব্দ, কচুরিপানা অপসারণের দৃশ্য এবং প্রশাসনের সক্রিয় তৎপরতা নতুন আশার বার্তা দিচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হলে খোজারখলা পুকুর শুধু একটি জলাধার হিসেবেই নয়, বরং পরিবেশ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য এবং নগরবাসীর অবসর বিনোদনের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবেও নতুন পরিচয় পাবে।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ:

গোয়াইনঘাটে নদীগর্ভে বি*লীনের পথে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো
খাবারের মান নিয়ে অ*ভিযোগ করায় শিক্ষার্থীকে মা*রধর, শাবিপ্রবিতে বিক্ষো*ভ
হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ সমাজের গুরুত্বপূর্ণ সেবাদাতা - সিসিক প্রশাসক
খেলাধুলার উন্নয়নে সিসিক ও বিসিবি সমন্বিতভাবে কাজ করবে: আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী
সরকারি অনুমোদন না থাকায় সিলেটে সেইফওয়ে হাসপাতাল সি*লগালা
খোজারখলা পুকুরে উ*দ্ধার অ*ভিযান শুরু, ফিরছে হারানো প্রাণ
সরকার দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে কাজ করছে: এমপি সৈয়দ মো. ফয়সল
ছাতকে বিপৎসীমার ওপরে সুরমার পানি, বন্যার শ'ঙ্কা
হাম উপসর্গে সিলেটে আরও ৩ শিশুর মৃ'ত্যু
মাধবপুরে নি'খোঁজের ৩ দিন পর মিলল যুবকের ম'রদেহ