সবুজ আমন ধানের পাশেই টমেটোর বেড, চলছে চারা রোপণ
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৭ AM

সবুজ আমন ধানের পাশেই টমেটোর বেড, চলছে চারা রোপণ

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৯/০৯/২০২৬ ০১:১৩:১৭ AM

সবুজ আমন ধানের পাশেই টমেটোর বেড, চলছে চারা রোপণ

ছবি: জৈন্তা বার্তা


সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় কৃষিতে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। চারদিকে দিগন্তজোড়া আমন ধানের সবুজ সমারোহ। এরই মধ্যে আমন ধানের খেতের পাশের জমিতে আগাম জাতের টমেটো চাষের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। কোথাও তৈরি হচ্ছে টমেটোর বেড, আবার কোথাও চলছে চারা রোপণ।

সবজি চাষের অন্যতম সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে পরিচিত গোয়াইনঘাটে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি। উপজেলার বিভিন্ন ফসলি মাঠে টমেটোর বেড তৈরি ও চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।

কৃষকেরা জানান, গত কয়েক বছর টমেটোর ভালো ফলন ও বাজারদর পাওয়ায় এবারও আগাম টমেটো চাষে তাদের আগ্রহ বেড়েছে। শীতের শুরুতে বাজারে টমেটো তুলতে পারলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যায় বলে আগেভাগেই জমি প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছেন তারা।

উপজেলার নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের নওয়াগাঁও গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, কাকডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে কাজ করছেন কৃষকেরা। কেউ কোদাল দিয়ে জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ জৈব সার প্রয়োগ করে মাটির উর্বরতা বাড়াচ্ছেন। আবার কেউ বীজতলা থেকে সাবধানে চারা তুলে তৈরি করা বেডে রোপণ করছেন।

নওয়াগাঁও গ্রামের কয়েকজন কৃষক বলেন, শীতের শুরুতে আগাম টমেটো বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যায়। এবার আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে থাকায় আগেভাগেই জমি প্রস্তুতের সুযোগ হয়েছে। উঁচু করে বেড তৈরি করে চারা রোপণ করা হচ্ছে, যাতে হঠাৎ বৃষ্টি হলেও চারার গোড়ায় পানি জমে না থাকে। ভালো ফলন হলে এবারও লাভের আশা করছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় কৃষকেরা বারি টমেটো, রাজা টমেটোসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের টমেটো চাষে বেশি আগ্রহী। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ছে। অনেক কৃষক এখন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ করছেন। এতে জমিতে আগাছার প্রকোপ কমার পাশাপাশি সেচের পানিও সাশ্রয় হচ্ছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রনি বলেন, গোয়াইনঘাটের মাটি ও আবহাওয়া সবজি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। আমন ধানের পাশাপাশি টমেটো চাষ কৃষকদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ও লাভজনক উদ্যোগ। এতে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে শীতকালীন সবজির চাহিদা পূরণেও সহায়তা করবে।

তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ