সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে তীব্র গরমের কারণে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন নতুন রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হচ্ছেন। রোগীর অতিরিক্ত চাপে ৫০ শয্যার হাসপাতালটি এখন প্রায় ধারণক্ষমতার তিনগুণ চাপ সামলাচ্ছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) নতুন করে ৩২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদিন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে মোট ১৬৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাদের মধ্যে শিশু ১১০ জন, পুরুষ ৩০ জন এবং নারী ২৯ জন। ভর্তি রোগীদের বেশিরভাগই নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশু।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। শয্যা না পেয়ে অনেক রোগী মেঝে ও বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বহির্বিভাগেও প্রতিদিন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে রোগীদের। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সীমিত জনবল নিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এরই মধ্যে দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাট রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। হাসপাতালের ওয়ার্ডে জেনারেটর না থাকায় লোডশেডিংয়ের সময় ফ্যান বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তীব্র গরমে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের কষ্ট চরমে পৌঁছেছে।
উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের ভুরাখালি গ্রামের পাভেল মিয়া জানান, দুই বছরের ছেলে প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হয়। পরে কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে শিশুকে নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
নন্দিরগাঁও গ্রামের পলাশ মিয়া, যার সন্তান নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত, বলেন, রোগীর চাপের কারণে অনেকেই শয্যা না পেয়ে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর ওপর জেনারেটর না থাকায় লোডশেডিংয়ের সময় ফ্যান বন্ধ থাকে। এতে গরমে শিশুরা আরও বেশি কষ্ট পাচ্ছে।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স জেরিন বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে। সীমিত জনবল ও সুযোগ-সুবিধা নিয়েও চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কৃপেশ রঞ্জন রায় বলেন, তীব্র গরমের কারণে নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। হাসপাতালের ওয়ার্ডে এখনো জেনারেটর নেই। আইপিএসের মাধ্যমে শুধু আলো জ্বালানো যায়। তবে ওয়ার্ডে ফ্যান চালানোর জন্য জেনারেটর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




