ছবি:সংগৃহীত
সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র বন্দরবাজারে বর্তমান হাসান মার্কেটের স্থলে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন সুপার মার্কেট নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। নতুন মার্কেটে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংসহ আধুনিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থাকবে। পাশাপাশি বর্তমানে যারা হাসান মার্কেটে ব্যবসা করছেন, তাদের স্বার্থ ও ক্ষতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে বলে জানান তিনি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে হাসান মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘হাসান মার্কেট সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। ঐতিহ্যবাহী এই মার্কেটের স্থলে একটি অত্যাধুনিক সুপার মার্কেট নির্মাণ করা প্রয়োজন। যেহেতু স্থানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই মার্কেট নির্মাণের আগে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ও নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে যত দ্রুত সম্ভব মার্কেট নির্মাণের পথে এগোব। মার্কেটে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থাকবে। পাশাপাশি এখন যারা ব্যবসা করছেন, তারা যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকেও আমরা দৃষ্টি রাখব।’
হাসান মার্কেট দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. রইছ আলীর সভাপতিত্বে এবং সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মো. আজিজুল করিমের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সমিতির উপদেষ্টা মোহাম্মদ আলী আকিক, আজমল হোসেন চৌধুরী, সহসভাপতি আক্তার হোসেন সোহেল, সহসাধারণ সম্পাদক মো. সাহেদ বকস্, আজিজুল মকসুদ তালহা, কোষাধ্যক্ষ জাবেদ আহমদ, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. নুরুল ইসলাম, মো. সিরাজুল ইসলাম, রিন্টু চক্রবর্তী, মো. আব্দুল রহিম, সাদ্দাম হোসেন মিলন, বিজয় দাস সানি, মীর মোহাম্মদ জাকারিয়া, নিটু দেব, শাহজাহান আহমদ, আবু হানিফ, সবুজ আহমদ, আব্দুল্লাহ আহমদ খোকন, এরশাদ আলম, কাউসার আহমদ, অফিস সহকারী সালমান হোসেন ইমনসহ ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সোমবার সকালে সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের কোনো এলাকাই অনুন্নত থাকবে না। নগরীর বর্ধিত এলাকাগুলো উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও পর্যায়ক্রমে এসব এলাকার সড়ক, ড্রেনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হচ্ছে। নাগরিকদের দুর্ভোগ কমাতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন।
তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের সীমানা সম্প্রসারিত হয়েছে, কিন্তু সে অনুযায়ী আয় বাড়েনি। তারপরও নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। সিলেট নগরীকে বন্যা ও জলাবদ্ধতামুক্ত করার পাশাপাশি আরও সুন্দর ও বসবাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
প্রশাসক বলেন, ‘আমি শুধু প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী নই, কাজ বাস্তবায়নে বিশ্বাসী। কাউকে মিথ্যা আশ্বাস দিতে চাই না। যেসব উন্নয়ন কাজের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।’
তিনি জানান, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুনামপুর এলাকায় ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণের কাজও চলছে। ধারাবাহিকভাবে এলাকার অন্যান্য সড়ক ও ড্রেনের উন্নয়নকাজও বাস্তবায়ন করা হবে।
সকালে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের পর জামেয়া তাহফিজুল কোরআন বরইকান্দি সুনামপুর মাদ্রাসায় এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় স্থানীয়দের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়া শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
দুপুরে সিসিক প্রশাসক ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কুচাই মাঝপাড়া এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে কুচাই পূর্বপাড়ায় আরসিসি ড্রেন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।
এ সময় মোগলাবাজার থানা বিএনপির সদস্য সচিব জামাল আহমদ, সিলেট মহানগর যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক বাবর আহমদ, সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি আব্দুল হাছিব, কুচাই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদ উদ্দীন রুকন, ইসমাইল হোসেন তকবির, আব্দুল জলিল, আনোয়ার হোসেন, নুরে আলম সাদেক, দিলাল আহমদ, ফখরুল ইসলাম, নাহিদ আহমদ, রিমন আহমদ, সাব্বির আহমদ, তানজির আহমদসহ স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৮ নম্বর ওয়ার্ডে পরিদর্শনকালে সাবেক কাউন্সিলর মো. রায়হান হোসেন, সাবেক চেয়ারম্যান রইছ আলী, মকসুদ মিয়া, মসকুর মিয়াসহ মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




