ছবি:সংগৃহীত
সিলেট নগরীর পরিকল্পিত, সমন্বিত ও টেকসই উন্নয়নের প্রত্যাশায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করে ভবিষ্যৎ নগর সম্প্রসারণে মাস্টারপ্ল্যানসহ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে নতুন এ কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে নগরীর নাইওরপুল এলাকার হোটেল ফরচুন গার্ডেনে সিউকের অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সংস্থাটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি ও গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এমপি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেটের বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘নতুন একটি সরকারি সংস্থার যাত্রা শুরু হওয়া সিলেটবাসীর জন্য আনন্দের বিষয়। সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে সরকারের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি নগরের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারি উন্নয়নকাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে উন্নয়নকাজই অনেক সময় নতুন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’
উন্নয়নকাজে সমন্বয়হীনতার উদাহরণ তুলে ধরে মুক্তাদির বলেন, ‘একটি সড়ক বা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে কখনো গ্যাসের লাইন কাটা হচ্ছে, পরে আবার সেখানে গ্যাসের লাইন বসাতে হচ্ছে। একইভাবে পানির পাইপ সরিয়ে আবার নতুন করে স্থাপন করতে হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে আন্তঃসংস্থা সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।’
সিউককে এ বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেন সমন্বয়হীনতা তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নতুন এই সংস্থারও রয়েছে। সিলেটের আগামী দিনের উন্নয়নে সিউক গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।’
এর আগে রোববার (২৩ আগস্ট) সিউকের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, সিলেট ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাকে পরিকল্পিত, সমন্বিত, টেকসই ও আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবে সিউক। এ লক্ষ্যে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, পেশাজীবী সংগঠন, সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিউকের রাজস্ব খাতে ৬৭টি ক্যাটাগরিতে মোট ৭১৪টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব পদের যৌক্তিকতা, বেতন স্কেল, নিয়োগযোগ্যতা নির্ধারণ ও প্রবিধানমালা প্রণয়ন করে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে স্থায়ী ও আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্থায়ী দপ্তরের জন্য জমি পেতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরের জন্য মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের পাশাপাশি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। ইমারত নির্মাণ আইন-১৯৫২, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি)-২০২০ এবং সিউক আইন-২০২৩ অনুযায়ী প্রকৌশলী, স্থপতি ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারদেরও তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে।
এ ছাড়া গণবিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরিত্যক্ত বা অবৈধ দখলে থাকা জমি উদ্ধার করে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিউকের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, পেশাজীবী সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্থপতি ও ডেভেলপারদের নিয়ে আধুনিক নগর পরিকল্পনা বিষয়ে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালার আয়োজন করা হবে।
জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ




