সংগৃহিত
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের জেলাভিত্তিক সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব বণ্টন-সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ১১ জন সংসদ সদস্য রোববার (৩০ আগস্ট) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন।
রিটে ২৭ আগস্ট জারি করা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনটি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রজ্ঞাপনটির কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে এ মামলায় বিবাদী করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের মধ্যে বণ্টন করে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। তাঁদের কেউ একটি, আবার কেউ দুই থেকে তিনটি জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
রিট আবেদনকারী পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (নাজিব মোমেন) গণমাধ্যমকে জানান, সংবিধান, রুলস অব বিজনেস এবং উচ্চ আদালতের পূর্ববর্তী রায়ের আলোকে এ ধরনের দায়িত্ব বণ্টন আইনসম্মত নয় বলেই তাঁরা রিট দায়ের করেছেন।
আবেদনকারীদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, ২০০১ সালেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং তা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ওই সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিলেন। তাঁর মতে, বর্তমান সিদ্ধান্তটিও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত।
রিটে আবেদনকারী অন্য সংসদ সদস্যরা হলেন-ঢাকা-১৪ আসনের মীর আহমাদ বিন কাসেম, রংপুর-৫ আসনের মো. গোলাম রব্বানী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের মো. নূরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মো. মাসুদ পারভেজ, যশোর-১ আসনের মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান, বাগেরহাট-২ আসনের শেখ মনজুরুল হক (রাহাদ), পটুয়াখালী-২ আসনের মো. শফিকুল ইসলাম, শেরপুর-১ আসনের মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, গাজীপুর-৪ আসনের সালাহ উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম-১৬ আসনের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ




