সিলেট উইমেন চেম্বারের নির্বাচিত পর্ষদের এক বছর পূর্তি
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০১ PM

‘স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে নারী উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে কাজ করেছি’: শম্পা

সিলেট উইমেন চেম্বারের নির্বাচিত পর্ষদের এক বছর পূর্তি

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭/০৯/২০২৬ ০৮:৪৩:২০ PM

সিলেট উইমেন চেম্বারের নির্বাচিত পর্ষদের এক বছর পূর্তি

ছবি:সংগৃহীত


সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক নির্বাচনে ১১ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নির্বাচিত হন লুবানা ইয়াসমীন শম্পা।

প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক ও বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে সিলেটের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চেম্বারের সাধারণ সদস্যদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

বর্ষপূর্তির এই সময়ে গত এক বছরের কার্যক্রম, সদস্যদের প্রাপ্তি এবং নতুন নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে চেম্বারের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেছেন সভাপতি লুবানা ইয়াসমীন শম্পা। শুরুতেই তিনি পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে সিলেটবাসীকে শুভেচ্ছা জানান এবং বর্ষপূর্তির কর্মসূচিতে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

অতীতের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে লুবানা ইয়াসমীন শম্পা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চেম্বারের সদস্য ও সাবেক পরিচালকদের অনুরোধে তিনি একটি ক্রান্তিকালে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, সংগঠনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রশাসক নিয়োগ থেকে শুরু করে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে দায়িত্ব নেওয়ার পর চেম্বারকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে সহসভাপতি ও নয়জন পরিচালকসহ ১১ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ একযোগে কাজ করেছে।

শম্পা জানান, গত এক বছরে চেম্বারের সদস্যদের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ, হস্তশিল্প তৈরি এবং সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তির বিষয়ে সেমিনারসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এছাড়া এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় চেম্বারের সদস্যদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম শুধু নগরকেন্দ্রিক ছিল না; সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় প্রান্তিক পর্যায়ের নারীদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের মাধ্যমে তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, চেম্বারের নিজস্ব ফান্ড গঠনের ক্ষেত্রেও সভাপতি ও পরিচালনা পর্ষদ সম্মিলিতভাবে কাজ করেছে এবং এতে সফলতা এসেছে।

পর্ষদের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে চেম্বারের অগ্রযাত্রায় সহযোগিতার জন্য সরকারের দুই মন্ত্রীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন লুবানা ইয়াসমীন শম্পা।

তারা হলেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

শম্পা বলেন, তাদের অব্যাহত সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা ছাড়া চেম্বারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা কঠিন হতো। বিশেষ করে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী শুরু থেকেই উইমেন চেম্বারের অগ্রযাত্রায় সহায়কের ভূমিকা পালন করেছেন। ভবিষ্যতেও তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সম্প্রতি চেম্বারকে ঘিরে বিভিন্ন অপপ্রচারের বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতি বলেন, সিলেট উইমেন চেম্বার কারও ব্যক্তিগত বা সামাজিক প্রতিষ্ঠান নয়। এটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংগঠন।

তিনি বলেন, অতীতেও সিলেটের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য কিংবা সিটি করপোরেশনের মেয়রের উপস্থিতিতে বিভিন্ন সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে চেম্বারকে প্রতিনিধিত্ব করতে হয়েছে। এর অর্থ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নয়; বরং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা এবং দেশের আর্থসামাজিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে কাজ করা।

তিনি আরও বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেম্বারে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই। পরিচালনা পর্ষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিটি সিদ্ধান্ত রেজুলেশনের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়।

নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে শম্পা বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে অপপ্রচার চালানোর উদ্দেশ্যে পরিবারকে টেনে এনে বিভিন্নভাবে কালিমা লেপনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

চেম্বারের বাণিজ্য মেলা আয়োজনকে ঘিরে বিতর্কের বিষয়ে সভাপতি বলেন, মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বাণিজ্য মেলা আয়োজনের বৈধ অধিকার সিলেট উইমেন চেম্বারের রয়েছে। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পুরো পরিচালনা পর্ষদ সম্পৃক্ত থাকে।

তার দাবি, পরিচালনা পর্ষদের বাইরে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে মেলার নামে আর্থিক লেনদেন বা গোপন চুক্তির সুযোগ নেই। মেলা নিয়ে ‘গোপন চুক্তি’র যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রটনা।

চেম্বারের সহসভাপতি ও এক পরিচালকের বক্তব্য বিকৃত করে প্রচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শম্পা।

তিনি বলেন, পরিচালক জাকিয়া ফাতেমা লিমি চৌধুরী বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। গণমাধ্যমে তার নামে বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এবং লিখিতভাবে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, সহসভাপতি চেম্বার সভাপতি কোনো অনিয়ম বা স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন-এমন কোনো বক্তব্য দেননি বলেও দাবি করেন শম্পা। তিনি শুধু মেলা অনুমোদনের বিষয়টি জানতেন না বলে জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন সভাপতি।

শম্পার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের দুজনের পক্ষ থেকেই ওই বক্তব্যের বিষয়ে লিখিতভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

সবশেষে তিনি বলেন, অপপ্রচার চালিয়ে সিলেট উইমেন চেম্বারের অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না। সত্যের জয় নিশ্চিতভাবেই হবে।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ