ছবি:সংগৃহীত
সিলেটের গোয়াইনঘাটে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেল একটি মর্টার শেল। শিশুরা খেলতে গিয়ে সেটি দেখতে পাওয়ার পর স্থানীয়রা সেটি ভাঙার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শেলটি উদ্ধার করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে। প্রশ্ন উঠেছে-এমন একটি বিস্ফোরক পরিত্যক্ত অবস্থায় ওই এলাকায় এলো কীভাবে?
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মধ্য জাফলং ইউনিয়নের নয়াগাঙেরপাড় এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা মর্টার শেলটি ধ্বংস করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় নয়াগাঙেরপাড় এলাকায় শিশুরা খেলতে গিয়ে মর্টার শেলটি দেখতে পায়। পরে স্থানীয় কয়েকজন যুবক সেটি আছড়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। তবে ব্যর্থ হয়ে তারা গোয়াইনঘাট থানায় খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মর্টার শেলটির আশপাশ থেকে লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেয়। এরপর শেলটি পাহারায় সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে মর্টার শেলটি উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সিলেটের এটিও ক্যাপ্টেন মনিরার নেতৃত্বে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মর্টার শেলটি ধ্বংস করেন।
এ সময় গোয়াইনঘাট থানার সেকেন্ড অফিসার তানভীর ফয়েজসহ সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক মোড়ল বলেন, মর্টার শেলটি উদ্ধারের পর থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছিল। পরে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা সেটি ধ্বংস করেন।
তবে ঘটনাটিকে ঘিরে রয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন। পরিত্যক্ত মর্টার শেলটি কত পুরোনো, এর উৎস কোথায় এবং কীভাবে এটি নয়াগাঙেরপাড়ের মতো জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পৌঁছাল-এসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়। এর আগে একই এলাকায় বা আশপাশে এমন কোনো বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের নিরাপত্তার স্বার্থে শেলটির উৎস ও সেখানে পৌঁছানোর পথ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে এসব প্রশ্নের উত্তর বেরিয়ে আসা জরুরি।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




