আশ্বাসেও কাটেনি অ/চলাবস্থা, অনড় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৮ PM

প্রশাসনিক ভবনে অ/বরুদ্ধ শিক্ষক-কর্মচারী, ক্যাম্পাসে দফায় দফায় বৈঠক

আশ্বাসেও কাটেনি অ/চলাবস্থা, অনড় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮/০৯/২০২৬ ১০:২৬:১৪ PM

আশ্বাসেও কাটেনি অ/চলাবস্থা, অনড় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা

ছবি:সংগৃহীত


কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত হয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধিভুক্ত হওয়ার দাবিতে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অচলাবস্থা কাটেনি। সোমবার দিনভর দফায় দফায় আলোচনা ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়ার পরও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর সন্ধ্যায় কলেজ ক্যাম্পাসে যান সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সেখানে তাঁরা দীর্ঘ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

আলোচনায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনে আটকে থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের মুক্ত করে দেওয়ার অনুরোধ জানান জেলা প্রশাসক ও সিসিক প্রশাসক। তবে তাঁদের আশ্বাস ও অনুরোধে সাড়া দেননি শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পর্যায় থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও তাঁদের মূল দাবির বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত হয়নি। এবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন বা দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠক

সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে বৈঠক করে। এতে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে মুক্ত করা, শাবিপ্রবির অধিভুক্ত করা এবং অন্যান্য একাডেমিক ও প্রশাসনিক দাবির বিষয় তুলে ধরেন।

জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকের পর শিক্ষার্থীরা তাঁকে কলেজ ক্যাম্পাসে এসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার অনুরোধ জানান। পরে জেলা প্রশাসক ও সিসিক প্রশাসক ক্যাম্পাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেন।

‘একদিনে সব দাবি পূরণ সম্ভব নয়’

ক্যাম্পাসে আলোচনার সময় সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী শিক্ষার্থীদের বলেন, তাঁদের দাবিগুলো নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে যোগাযোগ করা হবে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর খুব বেশি সময় পায়নি উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের কিছুটা সময় দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক তাঁর নিজস্ব চ্যানেলে মন্ত্রণালয়সহ ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো তুলে ধরবেন। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে সব দাবির তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব নয়।

জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনও শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর কথা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কলেজকে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে শাবিপ্রবির সঙ্গে রাখার বিষয়সহ একাধিক দাবি রয়েছে; এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় প্রয়োজন।

মুক্তি মিলল না অবরুদ্ধ শিক্ষক-কর্মচারীদের

আলোচনার একপর্যায়ে প্রশাসনিক ভবনে আটকে থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের মুক্ত করার বিষয়টি সামনে আসে। জেলা প্রশাসক ও সিসিক প্রশাসক শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করেন, আন্দোলন চললেও শিক্ষক-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে না রাখতে।

তবে শিক্ষার্থীরা তাঁদের অবস্থান পরিবর্তন করেননি। তাঁদের দাবি, মূল দাবির বিষয়ে দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের তালা খোলা হবে না।

ফলে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কলেজের প্রশাসনিক ভবনে আটকে থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ১৪ শিক্ষক এবং আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী অবরুদ্ধ থাকার তথ্য এসেছে।

অবরুদ্ধ থাকা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর অনেকটাই উচ্চতর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়। এরপরও তাঁরা দুদিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।

বদলি হওয়া নতুন অধ্যক্ষকেও ঢুকতে দেয়নি শিক্ষার্থীরা

আন্দোলনের মধ্যেই সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ পদে পরিবর্তনের প্রজ্ঞাপন জারি হয়। সোমবার নতুন দায়িত্ব পাওয়া অধ্যক্ষ ক্যাম্পাসে যোগ দিতে গেলে শিক্ষার্থীরা তাঁকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি। একই সময়ে আগের দায়িত্বে থাকা অধ্যক্ষও ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, মূল দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন অধ্যক্ষকে দায়িত্ব নিতে দেওয়া হবে না এবং বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকেও ক্যাম্পাস ছাড়তে দেওয়া হবে না।

দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ‘শাটডাউন’

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করে শাবিপ্রবির অধিভুক্ত করার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত কলেজের ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাবসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

তাঁদের দাবি, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমকে শাবিপ্রবির আওতায় নিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে রোববার সকাল থেকে কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে আছে। সোমবার দিনভর প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনার পরও সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।

ফলে একদিকে দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীদের অনড় অবস্থান, অন্যদিকে প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষক-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ থাকার পরিস্থিতি-দুইয়ে মিলে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ:

আশ্বাসেও কাটেনি অ/চলাবস্থা, অনড় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা
প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষার সব স্তরের শিকড়- সিসিক প্রশাসক
শিক্ষাকে ধ্বংস করা হয়েছে, পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে : এমপি নাসির উদ্দীন আহমেদ
দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান
আন্দোলনের মধ্যেই সিকৃবিতে ভিসি বদল
সিলেট দেশের প্রথম প্লাস্টিক দূষণমুক্ত শহর হবে - সিসিক প্রশাসক
উ'ত্তাল সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, অ'বরুদ্ধ ১৪ শিক্ষক
সিলেটে হাম সন্দেহে আরেক শিশুর মৃ'ত্যু, নতুন শনাক্ত ১৬ জন
চূড়ান্ত নিয়োগে বাদ জগন্নাথপুরের ৭ শিক্ষক প্রার্থী, বিস্ময়-ক্ষো*ভ-হতাশা
রো*হিঙ্গা সং ক ট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তারেক রহমানের আহ্বান