পাঁচ দাবিতে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪১ অপরাহ্ন

পাঁচ দাবিতে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

জহিরুল ইসলাম সানি, দোয়ারাবাজার

প্রকাশিত: ০২/১১/২০২৬ ০২:৫০:২৫ অপরাহ্ন

পাঁচ দাবিতে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন


সুনামগঞ্জ-কাছিরগাতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের অনিয়ম ধরিয়ে দেওয়ায় সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা বিএনপি। এতে অনিয়ম-দুর্নীতি ও এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিকট পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়।

সোমবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। 

এ সময় সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল হক, সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুক আলম, নাদির আহমদ, আকবর আলী, অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী, রেজাউল হক, আ ত ম মিসবাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে এমপি মিলন বলেন, এই প্রকল্পের কাজ পেয়েছিলেন ঢাকার ঠিকাদার আওয়ামী লীগ সমর্থক মো. বদরুল ইসলাম, ঠিকাদারী ফার্ম ইসলাম ট্রেডার্স। জানা যায়, ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর উক্ত ঠিকাদার দেশ ছেড়ে পালানোর পর এই কাজের ১ম সাব-ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আজাদ হোসেনকে। তাদের মধ্যে মতবিরোধের কারণে পরবর্তীতে উক্ত প্রকল্পের ২য় সাব-ঠিকাদার নিযুক্ত হন আরেক আওয়ামী ফ্যাসিস্ট, বিভিন্ন সন্ত্রাস দমন আইনের এবং প্রতারণামূলক বহু মামলার আসামি 'ডেভিল' শফিকুল ইসলাম।

তিনি আরও বলেন, গত ২৭ অক্টোবর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল বিশ্বম্ভরপুর রতারগাঁও হাইস্কুল থেকে একটি অনুষ্ঠান শেষে আসার পথে এলাকার সাধারণ জনগণ তাকে দাঁড় করিয়ে নির্মাণকাজের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেন। তখন তিনি নিজেও দেখতে পান সড়কের সদ্যনির্মিত গার্ড ওয়াল একদিকে হেলে পড়েছে। ব্লক নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী। মাটি কম্পেকশন না করে জিও টেক্সটাইলের ওপর নিম্নমানের ব্লক বসিয়ে সড়কের প্রটেকশন দেওয়া হচ্ছে। ভিট বালুর পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে কৃষিজমির টপ সয়েল। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সংসদ সদস্য পরের দিন ঠিকাদারকে উপস্থিত থাকার জন্য উপস্থিত ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাকে নিয়ে পরের দিন সাইট তিনি নিজে পরিদর্শন করবেন।

মিলন বলেন, আমরা লক্ষ্য করলাম সাথে সাথে ওইদিনই উক্ত সাব-ঠিকাদার স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তার বিরুদ্ধে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এই সংঘবদ্ধ তথ্য সন্ত্রাসের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।

তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের প্রথম সাব-ঠিকাদারের মুখ থেকে আপনারা শুনেছেন বাস্তবে ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে ৮৭ কোটি টাকা ব্যয় দেখাতে কিভাবে ওভার এস্টিমেট করা হয়েছিল। আপনারা এও শুনেছেন নির্মাণকাজ বাস্তবায়নে ৭ লাখ ঘনফুট মাটির স্থলে কিভাবে ৫৬ লাখ ঘনফুট মাটি ধরা হয়েছে। পুকুর চুরির এই প্রকল্পে সাব-ঠিকাদারের জানামতে এই কাজে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে এবং উত্তোলিত বিলের টাকা সড়ক বিভাগের লোকজন এবং ঠিকাদারের প্রতিনিধি ভাগাভাগি করে নিয়েছে। ইতোমধ্যে উক্ত প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বিল উত্তোলন করে লুটপাট করা হয়েছে। জনগণের সম্মুখে প্রকল্পের প্রাক্ষলিত ব্যয়ের কোনো সাইনবোর্ড প্রদর্শন করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতির এই প্রকল্প নিয়ে পাঁচ দফা দাবি তুলেন ধরেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিলন। দাবিগুলো হচ্ছে- এক. প্রকল্প শুরুর দিকে দুর্নীতির যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করা হয়, তার সঙ্গে জড়িত প্রতিটি ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। দুই. প্রকল্পের প্রকৃত মূল্য পুর্নমূল্যায়ন করে অতিরিক্ত যে মূল্য (ওভার ভ্যালু) দেখানো হয়েছে সেই টাকা দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারের কাছ থেকে সরকারি কোষাগারে ফেরত আনতে হবে। তিন. ইতোমধ্যে যে পরিমাণ নিম্নমানের কাজ হয়েছে সেগুলো বাতিল করে ডিজাইন অনুযায়ী মানসম্পন্ন নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার নিশ্চিত করে নতুন করে কাজ করতে হবে। চার. এই সংস্কারকাজ বাস্তবায়নে সড়ক বিভাগের যে সকল প্রকৌশলী জড়িত, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারে যাদের দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাঁচ. দুর্নীতিবাজ এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যতগুলো কাজ চলামন রয়েছে, সবগুলোর কাজ এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের অনুসন্ধান করতে হবে।

জৈন্তাবার্তা/আরআর