সিলেটে দুই কিলোমিটার সড়কে যেতে লাগে ৩০ মিনিট!
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৫:৪০ PM

হুমায়ুন রশীদ চত্বর টু চন্ডিপুল সড়ক

সিলেটে দুই কিলোমিটার সড়কে যেতে লাগে ৩০ মিনিট!

মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮/১০/২০২৫ ১১:৫৪:১৮ PM

সিলেটে দুই কিলোমিটার সড়কে যেতে লাগে ৩০ মিনিট!

ছবি: নিজস্ব


চন্ডিপুল থেকে হুমায়ুন রশীদ চত্বর পর্যন্ত এই দুই কিলোমিটার সড়ক পুরোটাই খানা-খন্দে ভরা। মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে লাগছে ৩০ মিনিট সময়। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। চালকরা বলছেন, এই সড়ক পাড়ি দিতে তাদের রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। এর প্রভাব পড়ছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে। সময় ও জ্বালানির খরচ বাড়ায় পণ্যের দাম বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টকর্তৃপক্ষ একাধিকবার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি নেই বললেই চলে। দুর্ভোগের পাশাপাশি এই অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষতি হ”েছ। অবশ্য সড়ক ও জনপথ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, সড়কটি মেরামতের জন্য টেন্ডার পক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন ফাইল চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপদেষ্টার টেবিলে রয়েছে। তিনি অনুমোদন দিলেই কাজ শুরু হবে। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, পিচের ঢালাই উঠে বড় বড় গর্ত। বৃষ্টি নামলেই তাতে জমে থাকে পানি। দেখে বোঝার উপায় নেই এটা সড়ক না জলাশয়। কাদাপানি মাড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিনই চলছে শত শত যানবাহন। ভাঙাচোরা সড়কে কমছে গাড়ির গতি। এতে প্রায়সময়ই লেগে থাকছে যানজট। এমন চিত্র সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের চন্ডিপুল থেকে হুমায়ুন রশীদ চত্বর পর্যন্ত। এই দুই কিলোমিটার সড়ক পুরোটাই খানা-খন্দে ভরা।

যাত্রী ও চালকরা জানান, সিলেট থেকে ঢাকার দুরত্ব প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার। দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে একসময় সময় লাগতো ৫ থেকে ৬ ঘন্টা। এখন সময় লাগে প্রায় দ্বিগুণ। ৬ লেনে সম্প্রসারণের কাজ এবং স্থানে স্থানে  খানাখন্দের কারণে রীতিমতো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে মহাসড়কটি। বিশেষ করে মহাসড়কের হুমায়ূন রশিদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের অবস্থা একেবারে নাজুক। মাত্র পাঁচ মিনিটের এই সড়ক এখন পাড়ি দিতে লাগে ৩০ মিনিট সময়।

জানা যায়, সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক হয়ে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে কয়েক হাজার গাড়ি। যাত্রার শুরুতেই হুমায়ূন রশিদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কে চালক ও যাত্রীদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে। সড়কের স্থানে স্থানে খানাখন্দ। ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। একসময় যেখানে সিলেট থেকে বাসযোগে ঢাকায় যেতে ৫-৬ ঘন্টা সময় লাগতো। এখন সময় লাগছে প্রায় দ্বিগুণ।

তারা বলছেন, মহাসড়কজুড়ে সম্প্রসারণ কাজ, খানাখন্দ ও ভাঙাচোরার কারণে যানবাহনের গতি কমেছে। এদিকে ভাঙাচোরা সড়কের কারণে ¯’ানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব পড়ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা সময়মতো পণ্য ডেলিভারি দিতে পারছেন না। একসময় যেখানে রাতে ঢাকা থেকে পণ্যবাহী গাড়ি ছাড়লে ৫-৬ ঘন্টায় সিলেটে এসে পৌঁছাতো সেখানে এখন ১২-১৪ সময় লেগে যা”েছ। যেকারণে সময়মতে পণ্য ডেলিভারি দেওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া ভাঙাচোরা সড়কের কারণে পণ্য আনা-নেওয়ায় খরচও বেড়েছে। এতে বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে।

কালিঘাটের ব্যবসায়ী আব্দুল খালিক জানান, ‘ভাঙাচোরা সড়কের কারণে পণ্যবাহী গাড়ি দেরিতে সিলেটে এসে পৌঁছা”েছ। যে কারণে আমরা সময়মতো পণ্য ডেলিভারি দিতে পারছেন না। তাছাড়া আগের চেয়ে পণ্য বহনের খরচও বেড়েছে।’ এদিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনের কাজ ধীরগতিতে চলায় দুরপাল্লার যাত্রীদের ভোগান্তিতে দিন দিন বেড়েই চলেছে। ৫-৬ ঘন্টার পথ পাড়ি দিতে কখনো ২৪ ঘন্টা সময় লাগছে। যানবাহনের গতি কমে মহাসড়কের বিভিন্ন ¯’ানে লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট। যানজটে বসে থাকতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা।

এনা পরিবহনের এক চালক জানান, ‘একসময় সাড়ে ৫ থেকে ৬ ঘন্টায় ঢাকা থেকে সিলেট আসা যেত। এখন গাড়ি চালানোই মুশকিল। যানজটে পড়লে এক ঘন্টায় গাড়ি আগায় মাত্র কয়েক মিটার।’

ট্রাক চালক বিলাল মিয়া জানান, ‘গাড়ি ছাড়ার পর কখন গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে সেটা এখন বলা মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মূল কারণ ভাঙাচোর সড়ক।’

সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমির হোসেন জানান, ‘হুমায়ূন রশিদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল পর্যন্ত বেশি ভাঙা অংশের একপাশের কাজ শেষ হয়ে গেছে। এই দুই কিলোমিটার সড়ক পুরোটাই আরসিসি ঢালাই করা হবে। বাকি অংশের কাজ শুরু করার জন্য আমরা ইতোমধ্যে টেন্ডার পক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। ফাইল চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপদেষ্টার টেবিলে আছে। তিনি অনুমোদন দিলেই কাজ শুরু করবো।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের বাজেটও কম। যেকারণে আমাদের প্রাইয়োরিটি ভিত্তিতে কাজ করতে হয়। যেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটাকে গুরুত্ব দিতে হয়।’ 

জেলা প্রসাশক মো. সাওয়ার আলম বলেন, ‘দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সিসলেট অংশের জমি অধিগ্রহণ শেষ হবে। আর পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে পুরোদমে কাজ শুরু হবে।’

জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার