সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ৪নং বাংলাবাজার ইউনিয়নে ভারত থেকে আসা একটি ক্ষ্যাপা মহিষের তাণ্ডবে ৫ জন আহত ও তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরে স্থানীয়রা কৌশলে মহিষটিকে আটক করে বেঁধে রাখেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাংলাবাজার ব্রিজ পার হয়ে স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের সাইট অতিক্রম করে বিলাল মিয়ার মালিকানাধীন খাবার হোটেলে ঢুকে পড়ে মহিষটি। এ সময় মহিষটি শিং দিয়ে আক্রমণ করে হোটেলে রান্না করা খাবার, চেয়ার-টেবিল, হাঁড়ি-পাতিল তছনছ করে ফেলে।
পরে সেখান থেকে বের হয়ে ওই মহিষ আব্দুস সালামের চায়ের স্টলে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। এ সময় এক শিশুসহ চারজন পথচারীকে মহিষটি আক্রমণ করে আহত করে। পরে ক্ষ্যাপা মহিষটি আব্দুল কাইয়ুমের মালিকানাধীম ফার্ণিচারের দোকানে ঢুকে পড়ে। তখন দোকানে থাকা আসবাবপত্রসহ কাঁচের গ্লাসে ভাঙচুর চালায় এটি। এ সময় স্থানীয় জনতা দোকান থেকে বের হওয়ার সময় কৌশলে মোটা দড়ি দিয়ে মহিষটিকে আটক করতে সক্ষম হন।
আহত হওয়া পাঁচ পথচারীর তিনজনকে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা হলেন- উপজেলার ২নং লক্ষিপুর গ্রামের মৃত গনী মিয়ার পুত্র আব্দুর রকিব (৫০), একই গ্রামের জলফু মিয়ার পুত্র ওদুদ মিয়া (৬০) ও কেন্দ্রী গ্রামের আব্দুল গফুরের পুত্র ইব্রাহিম আলি (৩৫)। আহতদের মধ্যে আব্দুর রকিবকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেটে রেফার করা হয়েছে। তার মুখে মারাত্মক জখম আছে বলে জানান চিকিৎসক।
এদিকে, মহিষটি আটকের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম ও জৈন্তাপুর মডেল থানার পুলিশ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ীবৃন্দ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মহিষটি চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলামের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মহিষের তাণ্ডবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫-৬ লক্ষ টাকার সমপরিমাণ।
এদিকে, সীমান্ত অতিক্রম করে আসা ক্ষ্যাপা মহিষটি চোরাকারবারিদের মাধ্যমে না কি মালিকবিহীন অবস্থায় সীমান্ত অতিক্রম করে আসা সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




