ছবি নিজস্ব
সিলেটের গোয়াইনঘাটে কৃষকদের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে খরাসহিষ্ণু ও উচ্চফলনশীল জাতের নতুন জাতের ধান ব্রি-১০৩। অল্প সময়ে অধিক ফলন ও রোগবালাই প্রতিরোধে ক্ষমতাসম্পন্ন এই ধান গোয়াইনঘাটের কৃষকদের মাঝে খুব তাড়াতাড়ি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যখন খরার প্রকোপ বেড়েছে, তখন কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে নতুন জাতের এই ধান।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত এই জাতটি মূলত খরাপ্রবণ এলাকায় চাষের জন্য তৈরি করা হয়েছে। সাধারণত বোরো বা আমন মৌসুমে পানি সংকট দেখা দিলেও এই জাত স্বল্প পানিতেও ভালোভাবে বেড়ে ওঠে এবং ফলন দেয় বিঘাপ্রতি ১৮ থেকে ২০ মণ।
গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গোয়াইনঘাটে গত বছর থেকে এই নতুন জাতের ধান কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ১০৩ জাতের ধান চাষে দিন দিন কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের এই ধান চাষ করতে সহযোগিতা, পরামর্শ ও প্রদর্শনী দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ সহকারী কর্মকর্তা জীবন কৃষ্ণ রায় জানান, এ বছর উপজেলায় ১৮ হাজার ১৮০ হেক্টর আমন ধান আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে ৩৮০ হেক্টর নতুন জাতের ধান ১০৩ আবাদ হয়েছে এবং ৭৯টি প্রদর্শনী বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র দত্ত জানান, তার পরামর্শে বেশ কয়েকজন কৃষক ব্যক্তিগত উদ্যোগে নতুন জাতের এই ধান চাষ করেছেন এবং তার আওতায় বেশ কয়েকটি প্রদর্শনী রয়েছে। সকল কৃষকের ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি কৃষকের বিঘাপ্রতি ১৮ থেকে ২০ মণ ধান হবে।
তিনি আরও জানান, এই ধান চাষ করে কৃষকদের খরচ ও পরিশ্রম কম হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহ থেকে তারা ধান কর্তন করতে পারবেন।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্রি-১০৩ ধান অন্যান্য প্রচলিত জাতের তুলনায় মাঠে ১০ থেকে ১৫ দিন কম সময় নেয়। এর জীবনকাল মাত্র ১২০ থেকে ১২৫ দিন। ফলে এক মৌসুমে এই ধান কাটার পর সহজেই পরবর্তী ফসল যেমন গম, ভুট্টা, আলু, ডাল বা শীতকালের শাকসবজি চাষের সুযোগ থাকে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রনি বলেন, ব্রি ধান-১০৩ জাতের ধান চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। কারণ এটি স্বল্প জীবনকালের, খরা সহনশীল এবং উচ্চফলনশীল একটি জাত। এই জাতটি অন্যান্য প্রচলিত জাতের তুলনায় কম সময়ে এবং কম পানিতে ভালো ফলন দেয়, যা কৃষকদের খরচ কমাতে ও লাভ বাড়াতে সাহায্য করে। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ায় এবং আগাম ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হওয়ায় কৃষকরা এই জাতটির প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন এবং উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




