ছবি:সংগৃহীত
সিলেটের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করার দাবিতে ‘সিলেট আন্দোলন’ এর উদ্যোগে সিটি পয়েন্টে এক অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রবিবার সকাল ১১টায় সিটি পয়েন্ট থেকে সুরমা মার্কেট পয়েন্ট পর্যন্ত এই কর্মসূচিতে সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘দেশের অন্য জেলাগুলোর উন্নয়ন প্রকল্প একের পর এক অনুমোদন পাচ্ছে, কিন্তু সিলেটের প্রকল্পগুলো উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, এমনকি ঢাকায় শত শত কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, অথচ সিলেটের প্রকল্পের বরাদ্দ মাত্র ১৯ কোটি টাকা-তাও আবার ফেরত নেওয়া হয়েছে। এটি সিলেটবিদ্বেষ ছাড়া কিছু নয়।’
তিনি আরও বলেন, সিলেটের পর্যটন ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প ঘোষণা করা হলেও তা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-কক্সবাজার রেলপথে নতুন ট্রেন চালুর কথা থাকলেও প্রকল্প বন্ধ হয়ে আছে। পানির সংকট নিরসনে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও আজও অপূর্ণ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘সিলেটবাসীর ন্যায্য দাবি আদায় না হলে বিভাগজুড়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
সভায় সভাপতিত্ব করেন দরগাহ মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা আসজাদ আহমদ। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, ধর্মীয় ও পরিবহন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
‘সিলেট আন্দোলন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির পক্ষে সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীই আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, শুক্রবার জুমার বয়ানে সিলেট অঞ্চলের ইমামদের এই বিষয়ে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডার দায়িত্বশীলদেরও সিলেটের উন্নয়ন বঞ্চনার বিষয়টি তুলে ধরার আহ্বান জানান। শনিবার হযরত শাহজালাল (র.) দরগাহ চত্বর থেকে এক মশাল মিছিলও বের হয় কর্মসূচির সমর্থনে।
আরিফুল হক চৌধুরী জানান, সম্প্রতি তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা এবং রেল উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, সিলেটের অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে সরকার সচেতন এবং কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে রেল, পানি ও স্থানীয় সরকার খাতের প্রকল্পগুলোতে এখনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। বিশেষ করে ২০২১ সালে ঘোষিত ২৪০০ কোটি টাকার সড়ক সংস্কার প্রকল্পের ডিপিপি পুনরায় তৈরি করার নির্দেশনায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া বাদাঘাটে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কাজও স্থবির হয়ে আছে বলে জানান তিনি।
কর্মসূচির একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের হাতে সিলেটের উন্নয়ন সংক্রান্ত দাবিনামা হস্তান্তর করেন সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘সিলেটের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জমি অধিগ্রহণ ও কাজের তদারকি দ্রুত গতিতে চলছে। পানির সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেল যোগাযোগে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে যাতে আগামী একশ বছর সিলেটবাসীর আর আন্দোলনে নামতে না হয়।’
তিনি আরও জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে সিলেট থেকে নতুন একটি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে এবং বেশ কয়েকটি রাস্তা সংস্কার প্রকল্পের দরপত্র সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসক বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে সিলেটকে একটি সাসটেইনেবল ট্যুরিজম সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। সকল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।’
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




