জৈন্তাপুরে মসজিদ কবরস্থান রক্ষায় স্হানীয় উদ্যোগে টেকসই বাঁধ নির্মাণ
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০৪:২৩ PM

জৈন্তাপুরে মসজিদ কবরস্থান রক্ষায় স্হানীয় উদ্যোগে টেকসই বাঁধ নির্মাণ

সাইফুল ইসলাম বাবু, জৈন্তাপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩/১২/২০২৫ ০৪:০২:১৮ PM

জৈন্তাপুরে মসজিদ কবরস্থান রক্ষায় স্হানীয় উদ্যোগে টেকসই বাঁধ নির্মাণ

ছবি:নিজস্ব


সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় গ্রামবাসীর অর্থায়নে ও সেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে নদীভাঙনরোধ করে কবরস্থান রক্ষায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ করলো স্হানীয়রা।হতি ও চেলেঞ্জিং এই কাজটি করে নজির স্হাপন করেছে জৈন্তাপুর উপজেলার ২ নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ২ নং লক্ষিপুর গ্রামের জনসাধারণ। 

সরজমিনে  ভাঙন কবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা মিলে, তামাবিল মহাসড়কের ৪ নং বাংলাবাজার লোহার ব্রীজের পশ্চিম  পাশে রাংপানি হয়ে নাপিতখাল নদীর প্রবেশমুখে ২ নং লক্ষিপুর গ্রামের অংশে বড় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। স্হানীয় সূত্রে জানা যায় গত ২০১২ সাল থেকে ছোট পরিসরে প্রতি বছর আকষ্মিক পাহাড়ি ঢলের কারণে ২ নং লক্ষিপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানের পাশে ভাঙতে শুরু করে। 

এভাবে প্রতি বছর একটু একটু করে ভাঙনের পরিমান বৃদ্ধি পেতে থাকলে কবরস্থানে বেশ কিছু অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরই মাঝে স্হানীয় পর্যায়ে ও সরকারি সহায়তায় ভাঙন কবলিত অংশের কিছু জায়গায় গার্ডওয়াল নির্মান করা হলেও ২০২২ ও ২৪ এর প্রলয়ঙ্কারী বন্যায় গার্ডওয়াল পুরোপুরি ধসে পড়ে। পাশাপাশি পুনরায় কবরস্থানের বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। উল্লেখ্য কবরস্থানের পাশেই কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, দ্বিতল ভবনের জামেয়া ইসলামিয়া গুলজারুল উলুম মাদ্রাসা ও একটি দুতলা ভবন বিশিষ্ট কিন্ডারগার্টেন স্কুল ও একটি চক্ষু হাসপাতাল রয়েছে। এরই পাশাপাশি ২নং লক্ষিপুর সহ পাশ্ববর্তী আমবাড়ী,ডুলটিরপাড়, বাওনহাওর গ্রামে যাওয়ার অন্যতম প্রবেশপথও নদী ভাঙনের কবলে পড়ে যায়।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকারি প্রকল্পের আশায় না বসে স্হানীয় ২ নং লক্ষিপুর গ্রামবাসীর আর্থিক ও কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে উদ্যোগ নেয়া হয় আর সিসি  বক্ল স্হাপন করে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করার।

শনিবার (১৩ই ডিসেম্বর) উক্ত স্হানে গিয়ে দেখা যায় গ্রামের প্রায় শতাধিক তরুণ যুবক মিলে বাঁধ নির্মাণের কর্মযজ্ঞ। ৪ নং বাংলাবাজার লোহার ব্রীজের নিচ হতে ৩০০ ফুট এরিয়াতে বস্তার বাঁধ নির্মান করে পানি সেচ দিয়ে নদীর তীর শুকিয়ে আর সিসি ব্লক ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্লকগুলো স্হাপন করতে সেচ্ছাসেবী তরুণ,  রাজমিস্ত্রী,বালু শ্রমিকরা ব্যাস্ততম সময় পার করছেন।

এ বিষয়ে ২ নং লক্ষিপুর গ্রামের বাসিন্দা ৪ নং বাংলা বাজার ছিন্নমূল মিনি স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় ২০০ ফুট লম্বা ভঙন কবলিত অংশে বিশফুট চওড়া করে আরসিসি ব্লক গুলো স্হাপন করা হচ্ছে। এই কাজের সকল অর্থায়ন গ্রামের প্রবাসী,চাকরিজীবি, ব্যবসায়ী,কৃষক এমনকি শ্রমজীবী মানুষও অর্থ দিয়ে শরিক হয়েছেন। পাশাপাশি আজ থেকে শতাধিক যুবক সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে বাঁধ নির্মাণ কাজে সহায়তা করছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, যেভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে তা অনেক বছর টেকসই থাকবে বলে আশাবাদব্যক্ত করেন।

এ বিষয়ে ২ নং জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী আলমগীর হোসেন বলেন, মহতি এই কাজের জন্য শফিকুল ইসলাম সহ গ্রামের সকল যুবক ভাইদের কৃতজ্ঞতা জানান । তিনি চেলেঞ্জিং ও ব্যায়বহুল এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মাসজুড়ে ২ নং লক্ষিপুর জামে মসজিদে একের পর এক বৈঠক করেছে গ্রামবাসী। যার ফলশ্রুতিতে আজ এই মহতি কাজটি বাস্তবায়নের পথে। তিনি বলেন, এই গ্রামের প্রবিন মুরুব্বি যারা আমাদের পূর্ব পুরুষ ও পরিবারের মৃত  সদস্যরা শায়িত আছেন। তাদের শেষ স্মৃতি টুকু এক সময় নদী ভাঙনের ফলে বিলিন হওয়ার উপক্রম হয়ে গিয়েছিলো। বর্তমানে যেভাবে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হলো আশাকরি নদী ভাঙনের মত দূর্ভোগ থেকে স্হায়ী সমাধান পেলো ২ নং লক্ষিপুর গ্রামবাসী।

জৈন্তাবার্তা / সুলতানা