জৈন্তাপুরে হুম*কিতে মসজিদ ও কব*রস্থান : স্থানীয় উদ্যোগে নির্মাণ হচ্ছে টেকসই বাঁধ
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০৪:২৮ PM

জৈন্তাপুরে হুম*কিতে মসজিদ ও কব*রস্থান : স্থানীয় উদ্যোগে নির্মাণ হচ্ছে টেকসই বাঁধ

সাইফুল ইসলাম বাবু, জৈন্তাপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪/১২/২০২৫ ১২:৩৩:০৫ AM

জৈন্তাপুরে হুম*কিতে মসজিদ ও কব*রস্থান : স্থানীয় উদ্যোগে নির্মাণ  হচ্ছে টেকসই বাঁধ

ছবি: জৈন্তা বার্তা


জৈন্তাপুর উপজেলায় গ্রামবাসীর অর্থায়নে ও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে নদীভাঙন রোধ করে মসজিদ ও কবরস্থান রক্ষায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ করছেন স্থানীয়রা। মহতি এই কাজটি করে নজির স্থাপন করেছেন জৈন্তাপুর উপজেলার ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ২নং লক্ষিপুর গ্রামের মানুষ। 

সরেজমিনে ভাঙনকবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের ৪নং বাংলাবাজার লোহার ব্রিজের পশ্চিম পাশে রাংপানি হয়ে নাপিতখাল নদীর প্রবেশমুখে ২নং লক্ষিপুর গ্রামের অংশে বড় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সাল থেকে ছোট পরিসরে প্রতি বছর আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের কারণে ২নং লক্ষিপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানের পাশে ভাঙতে শুরু করে। এভাবে প্রতি বছর একটু একটু করে ভাঙনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকলে কবরস্থানের বেশ কিছু অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরই মাঝে স্থানীয় পর্যায়ে ও সরকারি সহায়তায় ভাঙনকবলিত অংশের কিছু জায়গায় গার্ডওয়াল নির্মাণ করা হলেও ২০২২ ও ২৪ এর বন্যায় গার্ডওয়াল পুরোপুরি ধসে পড়ে। পাশাপাশি পুনরায় কবরস্থানের বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। কবরস্থানের পাশেই রয়েছে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, দ্বিতল ভবনের জামেয়া ইসলামিয়া গুলজারুল উলুম মাদ্রাসা, একটি দোতলা ভবন বিশিষ্ট কিন্ডারগার্টেন স্কুল ও একটি চক্ষু হাসপাতাল। এর পাশাপাশি ২নং লক্ষিপুরসহ পার্শ্ববর্তী আমবাড়ী, ডুলটিরপাড়, বাওনহাওর গ্রামে যাওয়ার অন্যতম প্রবেশপথও নদীভাঙনের কবলে পড়ে যায়। 

এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকারি প্রকল্পের আশায় বসে না থেকে স্থানীয় লক্ষিপুর গ্রামবাসীর আর্থিক ও কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। 

শনিবার ওই স্থানে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের শতাধিক তরুণ-যুবক মিলে বাঁধ নির্মাণের কাজ করছেন। ৪নং বাংলাবাজার লোহার ব্রিজের নিচ থেকে ৩০০ ফুট এলাকায় বস্তার বাঁধ নির্মাণ করে পানি সেচ দিয়ে নদীর তীর শুকিয়ে আরসিসি বøক ফেলা হচ্ছে। বøকগুলো স্থাপন করতে স্বেচ্ছাসেবী তরুণ, রাজমিস্ত্রী ও বালু শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। 

এ বিষয়ে ২নং লক্ষিপুর গ্রামের বাসিন্দা, ৪নং বাংলাবাজার ছিন্নমূল মিনি স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় ২০০ ফুট লম্বা ভঙনকবলিত অংশে বিশ ফুট চওড়া করে আরসিসি বøকগুলো স্থাপন করা হচ্ছে। এই কাজের অর্থায়ন করছেন গ্রামের প্রবাসী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষকরা। এমনকি শ্রমজীবী মানুষও অর্থ দিয়ে শরিক হয়েছেন। পাশাপাশি আজ থেকে শতাধিক যুবক সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে বাঁধ নির্মাণকাজে সহায়তা করছেন। যেভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে, তা অনেক বছর টিকে থাকবে বলে আশা করছি। 

এ বিষয়ে ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, মহতি এই কাজের জন্য শফিকুল ইসলামসহ গ্রামের সকল যুবক ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। ব্যয়বহুল এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মাসজুড়ে ২নং লক্ষিপুর জামে মসজিদে একের পর এক বৈঠক করেছেন গ্রামবাসী। যার ফলশ্রæতিতে আজ এই মহতি কাজটি বাস্তবায়নের পথে। 

তিনি বলেন, এই গ্রামে আমাদের পূর্বপুরুষ ও পরিবারের মৃত সদস্যরা শায়িত আছেন। তাদের শেষ স্মৃতিটুকু একসময় নদীভাঙনে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। বর্তমানে যেভাবে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে, তাতে আশা করি নদীভাঙনের মতো দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী সমাধান পাবেন গ্রামবাসী। 


জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ