ছবি:সংগৃহীত
শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর ও কলঙ্কিত অধ্যায় উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সিলেট-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে অতীতের মতো সন্ত্রাসী ও পেশাদার অপরাধীদের দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা জরুরি।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে নগরীর চৌহাট্টাস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এবং পরে নিজ নির্বাচনী কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দেশীয় দোসররা পরিকল্পিতভাবে শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাহিত্যিকসহ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করেছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করে চিরতরে দুর্বল করে দেওয়া। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে, সেই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগের পথ ধরেই আজ বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৪ বছরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
তিনি বলেন, ১৪ ডিসেম্বর আমাদের শিখিয়েছে-আমরা মাথা নত করার জাতি নই, আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জাতি। একটি উন্নত, আধুনিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন, সেই নেতৃত্ব দিতে আমরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর আস্থা রাখি।
একই দিনে বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর ওপর পরিকল্পিত হামলা গোটা রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য উদ্বেগজনক। অতীতে প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের আগে সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে হলে আবারও সেই ধরনের বিশেষ অভিযান চালানো জরুরি।
তিনি বলেন, বিগত দেড় দশকে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারেনি। পরপর তিনটি নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে হওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। এবার জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে মুখিয়ে আছে। নির্বাচনকে সুষ্ঠু করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বিএনপি সবসময় আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। অতীতে বিএনপির শাসনামলে দলীয় পরিচয়ে কেউ অপরাধ করে পার পায়নি। ভবিষ্যতেও বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দলীয় পরিচয়ে সন্ত্রাসের কোনো স্থান থাকবে না।
মতবিনিময় সভায় তিনি নির্বাচিত হলে সিলেটের উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরে বলেন, সিলেটের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কর্মসংস্থানের অভাব। সরকারি নীতি সহায়তায় নতুন শিল্প স্থাপন, তথ্যপ্রযুক্তি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এই সংকট কাটানো হবে। কৃষি, যোগাযোগ, পর্যটন ও অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন, সুরমা নদীর দুই তীর সংরক্ষণ, মাদক ও অনলাইন জুয়া নির্মূলের পাশাপাশি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি যোগাযোগ হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নয়নের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও পর্যটন বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
শ্রদ্ধা নিবেদন ও মতবিনিময় সভায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, পেশাজীবী প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




