ছবি:নিজস্ব
যথাযথ মর্যাদায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে সিলেটের গোলাপগঞ্জে পালিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস। উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ব্যাপক কর্মসূচি পালন করেছে। গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতিফলন ঘটে।
বিজয় দিবসের সকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার শান্তি এবং দেশের কল্যাণ কামনা করা হয়। এরপর সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হলে পুরো প্রাঙ্গণ দেশপ্রেমের আবহে মুখরিত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে শান্তি ও সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে আকাশে পায়রা উড়িয়ে দেওয়া হয়। গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্কাউট দলের অংশগ্রহণে সুশৃঙ্খল ও বর্ণাঢ্য প্যারেড শো অনুষ্ঠিত হয়। প্যারেডে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সমন্বিত কুচকাওয়াজ ও বিভিন্ন স্কুলের স্কাউট দলের আকর্ষণীয় ডিসপ্লে দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ে।
প্যারেড শো চলাকালে উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ, আনসার-ভিডিপি ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধার, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনি মধ্যে দিয়ে বিজয় দিবসের শুভ সূচনা হয়। সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সৌধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থানে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। এরপর থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পৌরসভা, প্রেসক্লাব, বিএমএস এফ, অনলাইন প্রেসক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের নানান শ্রেণিপেশার মানুষের পক্ষ থেকে স্ব স্ব ব্যানারে র্যালী ও পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কুচকাওয়াজে অংশ নেন।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




