ছবি:সংগৃহীত
সিলেট নগরীর ভূমিকম্প ঝুঁকি বিবেচনায় একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, নগরীতে শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি বড় আকারের স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হবে এবং পুরোনো স্বেচ্ছাসেবক টিমগুলো পুনর্গঠন করা হবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকাভুক্ত ভবনগুলো পর্যায়ক্রমে ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আয়োজিত ‘সিলেটে ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও আমাদের প্রস্তুতি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ও এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুশতাক আহমদ। তিনি বলেন, সিলেট অঞ্চল বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প-প্রবণ এলাকায় অবস্থিত। ঐতিহাসিকভাবে ১৮৬৯ সালের কাছাড় ভূমিকম্প এবং ১৮৯৭ সালের গ্রেট ইন্ডিয়ান ভূমিকম্প সিলেট অঞ্চলে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। নয় মাত্রার একটি ভূমিকম্প সংঘটিত হলে সিলেট নগরীর অর্ধেকের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
মূল প্রবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়, সিলেট শহরের পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নগরীর অধিকাংশ ভবন নিম্ন থেকে মধ্যম উচ্চতার হলেও অনেক ভবন জাতীয় বিল্ডিং কোড প্রণয়নের আগেই নির্মিত কিংবা প্রকৌশল নকশাবিহীন। কাঠামোগত অনিয়ম ও অপর্যাপ্ত ভূমিকম্প নকশা এসব ভবনের প্রধান দুর্বলতা। বাংলাদেশের অতীত ভবন ধসের ঘটনাগুলো অপরিকল্পিত নির্মাণের ভয়াবহ পরিণতির দৃষ্টান্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাপা সিলেটের সভাপতি জামিল আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কাসমির রেজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর। স্বাগত বক্তব্য দেন বাপা সিলেটের সহ-সভাপতি আইনজীবী এমাদুল্লাহ শহীদুল ইসলাম।
আলোচনায় অংশ নেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম, কৃষি প্রযুক্তি অনুষদের ডিন মুক্তারুন ইসলাম, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির, সাবেক সভাপতি ও বাপা সিলেটের সহ-সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, বাপা সিলেটের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ ভাস্কর রঞ্জন দাস, সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুহুল আলম খান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু জাফর, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত দাশ, ফায়ার সার্ভিস সিলেটের উপ-সহকারী পরিচালক মো. কুতুব উদ্দিন, পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক বনানী দাস, তথ্য অধিদপ্তরের তথ্য কর্মকর্তা আকিকুর রেজা, সিলেট ভয়েসের প্রকাশক সেলিনা চৌধুরী, সুনামগঞ্জ সমিতি সিলেটের সহ-সভাপতি অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বাবর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ, পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পিযুষ পুরকায়স্থ টিটুসহ অন্যান্য বক্তারা।
সেমিনারে সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




