প্রশাসনের সিদ্ধান্তে বিপাকে কর্মজীবী ও ব্যবসায়ীরা
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০৯:৫৭ AM

রাত ১১টা পর্যন্ত মুদি দোকান ও কাঁচাবাজার খোলা রাখার দাবি

প্রশাসনের সিদ্ধান্তে বিপাকে কর্মজীবী ও ব্যবসায়ীরা

জৈন্তা বার্তা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১/১২/২০২৫ ১২:৩৩:৫৭ AM

প্রশাসনের সিদ্ধান্তে বিপাকে  কর্মজীবী ও ব্যবসায়ীরা

ছবি:সংগৃহীত


নগরীতে হোটেল রেস্তোরাঁ ও ওষুধের দোকান ব্যতীত সব ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রাত সাড়ে ৯টার পর বন্ধ রাখার নিদের্শনা দিয়েছে প্রশাসন। গেল ৭ ডিসেম্বর থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মুদি দোকান ও কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী ও কর্মজীবীরা পড়েছেন বিপাকে। 

কর্মজীবীরা বলছেন সারা দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে বাড়ি ফেরার পথে আমরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা করি। কিন্তু প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত আমাদের বিপাকে ফেলেছে। ব্যবসায়ীরা বলেন, এই সিদ্ধান্তের কারণে সিলেটে আগত পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। মুদি দোকান ও কাঁচাবাজার রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা। এরই মধ্যে এই দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি ও ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ। গত ১১ ডিসেম্বর তারা সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন। 

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বর্তমানে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় ফার্মেসি, রেস্টুরেন্ট, আবাসিক হোটেল ও মিষ্টির দোকান ছাড়া সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাত সাড়ে ৯টার পর বন্ধ রাখা হচ্ছে। এতে সিলেটে আগত পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। 

একাধিক ব্যবসায়ী আলাপকালে দৈনিক জৈন্তাবার্তাকে জানান, মার্কেট বন্ধ হওয়ার পর অনেক ব্যবসায়ী ও কর্মচারী নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করে বাসায় ফেরেন। কিন্তু রাত সাড়ে ৯টায় মুদি দোকান ও কাঁচাবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারেন না। বিশেষ করে শিশুপণ্য রাতের প্রয়োজন হলেও পাওয়া যায় না, ফলে পরিবারের শিশুরা কষ্টে রাত কাটায়। 

সিলেট একটি পর্যটননগরী উল্লেখ করে তারা বলেন, প্রতিদিন হাজারো পর্যটক সিলেটে আসেন। সারাদিন ভ্রমণ শেষে তারা রাতে হোটেলের আশপাশে কেনাকাটা করেন। বিশেষত হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ এলাকা পর্যটকদের প্রধান গন্তব্য। কিন্তু রাত সাড়ে ৯টার পর দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেলে পর্যটকেরা কেনাকাটা করতে না পেরে হতাশ হন। এতে সিলেটের পর্যটন অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 

অন্যদিকে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকান, কাঁচাবাজার ও দরগাহ এলাকার দোকানপাট খোলা রাখার দাবি জানাই। পাশাপাশি রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চাই। 

নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকার সবজি বিক্রেতা মুহিবুর রহমান বলেন, ‘কর্মজীবীরা রাতে বাসায় ফেরার সময় মাছ-সবজি ও মুদি পণ্য কেনাকাটা করে থাকেন। কিন্তু প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের কারণে আমরা যেমন লোকসানে আছি ঠিক একইভাবে ক্রেতারাও বিপাকে পড়েছেন।’

সুপারশপ হাতেম তায়ীর ব্যবস্থাপক বলেন, ‘শীতকালে লোডশেডিংও কম থাকে। কর্মজীবীরা রাতেই বেশি কেনাকাটা করেন। কিন্তু প্রশাসনের হঠকারি সিদ্ধান্ত বিক্রেতা-ক্রেতা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলার মহাসচিব আব্দুর রহমান রিপন দৈনিক জৈন্তা বার্তাকে বলেন, ‘প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের কারনে ব্যবসায়ীদের মাঝে ক্ষোভ হতাশা দেখা দিয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে ইতোমেধ্যে রাত ১১টা পর্যন্ত মুদি দোকান ও কাঁচাবাজার খোলা রাখার দাবি জানিয়েছি। পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসক আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন। আশা করি প্রশাসন আমাদের দাবি বিবেচনা করবেন।’

প্রসঙ্গত, গত ১ ডিসেম্বর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সিলেট মহানগর এলাকার বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় নগরীর সব হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ওষুধের দোকান ছাড়া সকল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রাত সাড়ে ৯টার মধ্যেই বন্ধ করতে হবে, সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যা ৭ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। 

এ ছাড়া সভায় শহরের যানজট নিরসনে সব মার্কেট ও শপিং মলের জন্য নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। যেসব প্রতিষ্ঠানের নকশায় পার্কিং স্পেস থাকলেও তা দোকানে রূপান্তর করা হয়েছেÑসেগুলো সরিয়ে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পার্কিংয়ের জন্য উন্মুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। 


জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ