ছবি:সংগৃহীত
সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, সংখ্যালঘু নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা ও কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সহিংসতার প্রতিবাদে সিলেটে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ও সংখ্যালঘু ঐক্য মোর্চা সিলেট জেলা ও মহানগরের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সিলেট জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট বিজয়কৃষ্ণ বিশ্বাস। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রঞ্জন ঘোষ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঐক্য পরিষদ সিলেট মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দেব। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মলয় পুরকায়স্থ।
বক্তারা ময়মনসিংহের ভালুকায় গার্মেন্টস কর্মী দিপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার অজুহাতে নৃশংসভাবে হত্যা, রংপুরের তারাগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ শিক্ষক যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়, ফরিদপুরের আশুলিয়ায় কলেজ শিক্ষক উৎপল সরকার, নরসিংদীর রায়পুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রাণতোষ কর্মকার হত্যাসহ চলতি বছরে সারাদেশে অর্ধশতাধিক হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপিকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়ন, ঐক্য পরিষদ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৃপেশ চন্দ্র পাল, পূজা পরিষদের জাতীয় পরিষদ সদস্য সুব্রত দেব, মহানগর পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এপেক্সিয়ান চন্দন দাস, খ্রিষ্টান এসোসিয়েশনের সভাপতি ডিকুম নিঝুম সাংমা, মহানগর পূজা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দেবব্রত চৌধুরী লিটন, ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক অরুণ কুমার বিশ্বাস ও শাহপরান থানা সভাপতি বিরেশ দেবনাথ।
একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য ফ্রন্ট মহানগরের সাধারণ সম্পাদক রাজিব দেব রাজু, সিলেট মহালয়া উদযাপন পরিষদের সভাপতি জি.ডি. রুমু এবং শ্রীহট্ট ইসকনের পক্ষে বলদেব কৃপা দাস।
বক্তারা বলেন, সংখ্যালঘু হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন এবং ধর্মীয় উপাসনালয়, ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের ঘটনায় প্রশাসনিক উদাসীনতা এসব সহিংসতাকে উদ্বেগজনকভাবে বাড়িয়ে তুলেছে। তারা দিপু চন্দ্র দাসসহ সকল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি দিপু চন্দ্র দাসের পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা ও দায়িত্ব নেওয়ার আহবান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আইন থাকলেও মিথ্যা অভিযোগ ও মব সৃষ্টির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কার্যকর আইন নেই। এ অবস্থায় মিথ্যা অভিযোগকারী ও মব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান সংযুক্ত করে পৃথক আইন প্রণয়নের দাবি জানান তারা।
সমাবেশ থেকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা দমনে সরকার ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের কঠোর হস্তক্ষেপের আহবান জানানো হয় এবং দেশপ্রেমিক জনগণকে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানানো হয়।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




